বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা ও নীতিমালার ওপর জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: ৫ বাংলাদেশিসহ নিহত ৯ মাদকের ভয়াল ছোবলে নারীরা: বাড়ছে আসক্তি ও উদ্বেগজনক প্রবণতা মাদারীপুরের শিবচরে পরিত্যক্ত স্থান থেকে অজ্ঞাত তরুণীর মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায় মালয়েশিয়ায় ঝুলে থাকা ১১ হাজারেরও বেশি পিআর আবেদন জুনের মধ্যে নিষ্পত্তির ঘোষণা কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু হালাল খাদ্যসংস্কৃতি ও মূল্যবোধ মানবসভ্যতার জন্য বড় সম্পদ: তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কার্যত নীরব নয়াদিল্লি নোয়াখালী-৬ আসনের এমপি আবদুল হান্নান মাসউদের পদ শূন্য চেয়ে হাইকোর্টে রিট নিয়ে সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের প্রতিক্রিয়া ও লেখকের পাল্টা বক্তব্য

নিয়ে সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের প্রতিক্রিয়া ও লেখকের পাল্টা বক্তব্য

প্রতিবেদকের নাম

৯ আগস্ট নাদিম মাহমুদের ‘ নিয়ে জামায়াতের এমপির কেন এই বিষোদ্‌গার’ শীর্ষক একটি মতামত প্রকাশিত হয়। এই লেখাটির প্রতিক্রিয়ায় সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ প্রতিক্রিয়ার শুরুতেই দাবি করেছেন, বাংলাদেশের মতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যেহেতু নারীর ক্ষমতায়ন ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে বারবার নারীকে টার্গেট করা হয়, সেহেতু এখানেও আসলে নারী হিসেবেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক যে নারী সংসদ সদস্য নিজেকে ‘নারী’ মনে করে ‘দুর্বল’ ভাবছেন এবং এই ‘দুর্বলতার’ কারণে তাঁকে ‘টার্গেট’ করা হয়েছে বলে মনে করছেন। আমার পুরো লেখায় কি কোথাও ‘লিঙ্গভিত্তিক’ বৈষম্য কিংবা নারীকে হেয় করার কোনো ইঙ্গিত ছিল?

নারীদের আটকানোর চেষ্টা সম্ভবত আমরা কেউ করতে চাই না, কিন্তু ‘নারীদের আটকানোর’ দৃষ্টিভঙ্গি গত বছর তাঁদের দলের আমিরের বক্তব্যে স্পষ্টত ফুটে উঠেছিল। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমি ‘নারীর ৫ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা, পেছনের রাজনীতিটা আসলে কী’ শিরোনামের লেখায় নারী ও পুরুষদের তফাত করার বিরোধিতা করেছি। কথাটা যিনি বলছেন, তাঁর দলীয় পরিচয়ই যদি লেখার মূল উপজীব্য হয়, তবে সেটা আর মতামতের সমালোচনা থাকে না, ব্যক্তির ও দলের ওপর আরোপিত বিচার হয়ে দাঁড়ায়। শিরোনামের প্রসঙ্গেই একটা কথা বলি। কয়েক মাস আগে আমাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে একটি ব্যঙ্গাত্মক অভিধা বসানো হয়েছিল। প্রতিবেদনটি অনুসন্ধানমূলক ছিল, সেটা স্বীকার করি এবং নিজেরাই দেখিয়েছিল ট্রলটির উৎস কোথায়। তবু প্রশ্নটা থেকে যায়, একটি ব্যঙ্গাত্মক অভিধাকে শিরোনামে তুলে আনলে সেটির প্রচার কমে, না বাড়ে?

এই দেশে প্রথম আলোকেও অনেকে নানা বিদ্রূপাত্মক নামে ডাকেন। কোনো সংবাদমাধ্যম যদি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে শিরোনামে লেখে, কেন ‘অমুক’ নামে ডাকা হয়, উদ্ধৃতিচিহ্নসহ, তখন সহকর্মীরা কি সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নেবেন? গোপন বন্দিশালা নিয়ে একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে যেদিন ‘কথিত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত মানুষ ক্ষোভ জানিয়েছেন, সমালোচনা করেছেন, অনেকে বর্জনের কথাও বলেছেন। পাঠকেরা একই সঙ্গে পত্রিকাকে জবাবদিহি করার প্রধান হাতিয়ারও। দ্বিতীয়ত, ড. নাদিম মাহমুদের লেখায় আমার বক্তব্যের এই মূল জায়গাটি প্রায় অনুপস্থিত; বরং আমার বক্তব্যের ‘আমরা’ শব্দটি ধরে একটি প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে, এই ‘আমরা’ কারা? এরপর সেটিকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। মারদিয়া মমতাজ ‘আমরা’ শব্দের আমার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলছেন, এই ‘আমরা’ ব্যাখ্যা শোনার জন্য তাঁর সঙ্গে আমি কেন যোগাযোগ করলাম না। যোগাযোগ করলে পরিষ্কার উত্তর দিতেন। সবচেয়ে বড় কথা, মারদিয়া প্রতিক্রিয়ায় ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহারের কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এখানে লেখকের একটি মৌলিক দায়িত্ব ছিল, তিনি আমাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করতে পারতেন, ‘আপনি আমরা বলতে কাদের বুঝিয়েছেন?’ আমি পরিষ্কারভাবে উত্তর দিতাম। কিন্তু আমাকে প্রশ্ন না করে আমার একটি শব্দ থেকে রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা হয়েছে। এটি ছিল একটি মতামতভিত্তিক লেখা, কোনো প্রতিবেদন ছিল না। যদি প্রতিবেদন হতো, নিশ্চয় সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এই সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘আমরা’ শব্দের ব্যাখ্যা চাইতেন। কিন্তু আমি একজন স্বাধীন লেখক হিসেবে আমার কলামে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অধিকার রাখি। আমি কোনো সহিংসতার দায় স্বীকার করিনি। কোনো সংগঠনকে সেই ঘটনার সঙ্গে যুক্তও করিনি। অথচ আমার বক্তব্য থেকে এমন একটি সংযোগ তৈরি করা হয়েছে, যার ভিত্তি আমার বক্তব্যে নেই। তৃতীয় এবং সবচেয়ে জরুরি কথা, আমার বক্তব্য ছিল রূপক। আমি সহিংসতার পক্ষে বলিনি, বলেছি সহিংসতা কাজ করে না। অফিস ভাঙলে পত্রিকা দুর্বল হয় না, বরং শক্তিশালী হয়। আমি বোঝাতে চেয়েছি, একটি পত্রিকার প্রকৃত শক্তি তার পাঠকদের কাছে।

১৯৮৯ সালের এপ্রিলে ইংল্যান্ডের হিলসবরো স্টেডিয়ামে পদদলিত হয়ে ৯৭ জন লিভারপুল সমর্থক নিহত হন। ঘটনার চার দিন পর ব্রিটেনের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক দ্য সান প্রথম পাতায় ‘দ্য ট্রুথ’ শিরোনামে দাবি করে, সমর্থকেরাই মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা করেছে, মরদেহের পকেট থেকে চুরি করেছে, উদ্ধারকর্মীদের মারধর করেছে। ২০১২ সালের তদন্তে প্রমাণিত হয়, পুরো বয়ানটাই ছিল পুলিশি ধামাচাপার অংশ, সম্পূর্ণ মিথ্যা। ২০১৬ সালের ইনকোয়েস্ট রায়ে সমর্থকদের সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। লিভারপুল শহর কী করেছিল? পত্রিকা অফিসে আগুন দেয়নি। তারা পত্রিকাটি কেনা বন্ধ করে দিয়েছিল। ‘ডোন্ট বাই দ্য সান’ নামের সেই বর্জন আজও চলছে, প্রায় ছত্রিশ বছর ধরে। ২০১৭ সালে লিভারপুল ফুটবল ক্লাব দ্য সান–এর সাংবাদিকদের নিজেদের স্টেডিয়াম ও অনুশীলন মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এটিই হলো গণমাধ্যমের জবাবদিহিতার প্রকৃত গণতান্ত্রিক পথ।

কলামের লেখক ড. নাদিম মাহমুদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ নেই। কিন্তু তাঁর লেখার একটি ধরন লক্ষ করার মতো। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি লিখেছিলেন, শিরোনাম ছিল ‘“ভারতবিরোধী” জামায়াতের ইশতেহারে কেন ভারতীয় ছবি’। অর্থাৎ কেউ সরকারের নীতি ও কাজের সমালোচনা করলে বৈধভাবে সরকারের সুবিধা নিতে পারবে না। সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, আমি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই জামায়াতের বিরুদ্ধে লিখি। অভিযোগটি হাস্যকর। লেখকের ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, জামায়াতের বিষয়ে কী অবস্থান?’, ‘“গুপ্ত” রাজনীতি কেন ভয়ানক’ ইত্যাদি শিরোনামের মতামতগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির সমালোচনা যখন করা হয়, তখন তা হয় নীতিগত। কিন্তু জামায়াতের ক্ষেত্রে সেটি ব্যক্তিগত আক্রোশে রূপ নেয়। এই দেশে গত ১৫ বছরে আমরা দেখেছি, সরকার নয়, বিরোধী দলই ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনার প্রধান লক্ষ্য। সরকারের ভুল বিশ্লেষণ করা হয়েছে সহানুভূতির সঙ্গে, বিরোধী দলের অস্তিত্বকে করা হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। ধীরে ধীরে আমরা যেন সেই অভ্যাসেই ফিরে যাচ্ছি। যদি আবারও সরকারের চেয়ে বিরোধী দলের সমালোচনায় কলম বেশি সরব হয়, তবে বুঝতে হবে, গত ১৫ বছরের শিক্ষাটা আমরা নিইনি।

আমি চাই টিকে থাকুক, শক্তিশালী থাকুক এবং যে সরকারই আসুক, তার সমালোচনা করুক। সেটাই তার কাজ। আর পাঠক হিসেবে দ্বিমত পোষণ করা, প্রয়োজনে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, সেটা আমার কাজ। দুটোই গণতন্ত্র। মানুষের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতার স্বরকে শ্রদ্ধা জানানো জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বও বটে। সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রতিনিধি, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে সেই মতের সমালোচনা করা একজন নাগরিক ও লেখকের অধিকার। আমি মনে করি, রাজনৈতিক বিতর্ককে ব্যক্তিগত পর্যায়ে না নিয়ে বরং ইস্যুভিত্তিক আলোচনা করাই সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ। জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্য তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলছেন, তাঁর ওই বক্তব্য ছিল ‘রূপক’ এবং তিনি কোনো ধরনের ‘সহিংসতার’ পক্ষে বলেননি। প্রশ্ন হলো, তিনি যে সহিংসতার পক্ষে বলেছেন, তা কি আমি আমার লেখায় বলেছি? আমি কেবল তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য ব্যাখ্যার সমালোচনা করেছি।

মতো একটি জাতীয় দৈনিকের দায়িত্ব অনেক। তারা যখন কোনো শিরোনাম বা প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তখন তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। সংসদ সদস্যের দাবি অনুযায়ী, তিনি যদি মনে করেন তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে, তবে সেই বিতর্কের অবসান ঘটাতে স্বচ্ছ আলোচনার প্রয়োজন। কিন্তু তিনি যখন পাল্টা অভিযোগ করেন যে আমি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে লিখছি, তখন সেটি আলোচনার পথকে রুদ্ধ করে দেয়। আমার লেখাটি কোনোভাবেই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল না, বরং একটি রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যের বক্তব্যের ওপর একটি বিশ্লেষণ ছিল। রাজনীতিতে সমালোচনা থাকবেই, কিন্তু সেই সমালোচনা যেন ব্যক্তি আক্রমণ বা লিঙ্গভিত্তিক বিতর্কে রূপ না নেয়, সেদিকে আমাদের সবার খেয়াল রাখা উচিত। মারদিয়া মমতাজ নিজেকে নারী হিসেবে উপস্থাপন করে যে সুর তৈরি করেছেন, তা রাজনৈতিক বিতর্কের মূল ইস্যু থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার একটি কৌশল হতে পারে কি না, তা পাঠকই বিচার করবেন।

পরিশেষে, আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা একে অপরের পরিপূরক। বা অন্য যেকোনো পত্রিকা যদি ভুল করে, তবে পাঠক হিসেবে আমাদের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। কিন্তু সেই প্রতিবাদ যেন সহিংস না হয়, বরং তা যেন লিভারপুলের জনগণের মতো অহিংস ও গণতান্ত্রিক হয়। সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের সঙ্গে আমার মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই পার্থক্য যেন আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে নষ্ট না করে। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে আমরা আরও গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে পারব, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে যুক্তির প্রাধান্য থাকবে। সংসদ সদস্যের প্রতি আমার কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই, বরং তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল।

গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে পরিশীলিত। সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এখনো অনেক পরিপক্কতার প্রয়োজন আছে। তিনি নিজেকে নারী হিসেবে দুর্বল মনে করছেন কি না, তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে, কিন্তু রাজনীতির ময়দানে নারী ও পুরুষ সবারই সমান অধিকার ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি আমার লেখায় সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই সমালোচনা করেছি। আশা করি, এই বিতর্কের মাধ্যমে আমরা সবাই আরও সচেতন হব এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব।

মারদিয়া মমতাজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর প্রতিটি বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তাই তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করা কেবল আমার অধিকার নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্বও বটে। আমি আশা করি, তিনি আমার এই সমালোচনাকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবেই দেখবেন। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে গণমাধ্যম ও জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে জনগণের সেবা করবে। এই বিতর্কের এখানেই ইতি টানা উচিত বলে আমি মনে করি।

পরিশেষে, প্রতি আমার কোনো বিদ্বেষ নেই, বরং আমি চাই এই পত্রিকা আরও শক্তিশালী হোক এবং দেশের গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করুক। সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের সঙ্গে এই বিতর্কের মাধ্যমে আমি কেবল আমার রাজনৈতিক অবস্থান ও যুক্তির জায়গাটি পরিষ্কার করতে চেয়েছি। আশা করি, পাঠকরা আমার এই বক্তব্য ও সংসদ সদস্যের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আমাদের সবার লক্ষ্য হোক একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ