জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের আকস্মিক ইউক্রেন সফরের মধ্যেই দেশজুড়ে ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। বিশেষ করে কিয়েভের প্রধান সেতুগুলোতে টানা চতুর্থ দিনের মতো রুশ ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মূলত পিভনিচনি (নর্দার্ন) সেতু এবং পিভদেননি (সাদার্ন) সেতু। রবিবার সকালে পিভনিচনি সেতুতে চালানো হামলায় দুজন আহত হয়েছেন এবং সেতুটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, চলন্ত গাড়ির ওপর ড্রোন আঘাত হানার পরপরই সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। সেতুর লেনে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো এই হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগের দিনও একই সেতুতে হামলা হয়েছে। ইউক্রেনে রুশ হামলা জোরদারের মধ্যেই দেশটিকে সমর্থন জানাতে কিয়েভ সফরে গেছেন মের্ৎস।
যুদ্ধ পরিস্থিতির এমন উত্তপ্ত সময়ে কিয়েভে অবস্থান করছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তিনি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং যুদ্ধে প্রাণ হারানো সেনাদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মের্ৎস জানান, ইউক্রেন এখন অত্যন্ত সংকটময় সময় পার করছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের লড়াইয়ের ফলাফলের ওপর জার্মানির নিজস্ব নিরাপত্তাও নির্ভর করছে। ২০২৫ সালের মে মাসে চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জার্মানি ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় একক দাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে কিয়েভকে আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। রুশ বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তার হুঁশিয়ারি, এই আগ্রাসন থামানো না গেলে ইউরোপের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই আজ কিয়েভে এসেছি এই বার্তা নিয়ে যে, আপনারা আমাদের ওপর নির্ভর করতে পারেন। রাশিয়াকে থামানো না গেলে তাদের যুদ্ধযন্ত্র একসময় ইউরোপের দিকেও ঘুরে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে রুশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে তারা আক্রমণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে। এর আগে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইউক্রেনীয় সেনা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি সেতুতে তারা সফল হামলা চালিয়েছে। পালটা জবাবে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাতভর রাশিয়া মোট ১৩৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে ৫২টি ছিল জেটচালিত। তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ১২৫টি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন নর্দান ব্রিজ নামে গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।