সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কিয়েভে জার্মান চ্যান্সেলরের সফরকালে রাশিয়ার ড্রোন নিরাপত্তা ঘটনায় বাংলাদেশে পার্টনার স্কুলগুলোকে ব্রিটিশ কাউন্সিলের বিশেষ স্বীকৃতি ও পুরস্কার মার্কিন হামলার আশঙ্কা কম, তবু সতর্ক কানাডা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটির সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা সাভারে কাজের প্রলোভনে ব্যবসায়ীকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায়, মুক্তিপণ আদায় ঢাকার সিএমএম আদালতে বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের হাতাহাতি বেড়ে গেল এলপিজির দাম, নতুন দর কার্যকর আজ থেকে দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না: ভূমিমন্ত্রী শুটিং ফেডারেশনের কার্যক্রমে বাধা নেই

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা

প্রতিবেদকের নাম

কানাডার জন্য একসময় বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ কল্পনাতীত, তবে বর্তমানে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। গত সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী প্রতিবেশীর কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত সামরিক হুমকির মোকাবিলায় তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। কার্নি অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, সরাসরি সামরিক হামলার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ এবং ঝুঁকিও খুবই কম। তবে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণে সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখাকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে কার্নি স্পষ্টভাবে জানান, এটি মূলত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি অংশ। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘পুরো কর্মজীবন সামরিক অভিযানে ছিলাম। তারপরও বিষয়টি কানাডীয়দের উদ্বিগ্ন করছে। অর্থনীতি, সামরিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতেও তারা গভীরভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।

কানাডার এমন সতর্ক অবস্থানের পেছনে ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি এবং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর বারবার দেওয়া হুমকি বড় প্রভাব ফেলেছে। যদিও ২০২৫ সালে ট্রাম্প নিজে বলেছিলেন যে, কানাডার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম এবং তিনি রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক চাপকেই প্রাধান্য দিতে চান। তারপরও কানাডার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গত জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর পরিচালিত লেজারের এক জরিপ অনুযায়ী, ৩০ শতাংশেরও বেশি কানাডীয় নাগরিক বিশ্বাস করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কানাডা আক্রমণের একটি সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ শ্মিট মনে করেন, কানাডার এই সামরিক পরিকল্পনা বদলে যাওয়া বিশ্বব্যবস্থারই বড় ইঙ্গিত। তার মতে, ন্যাটোর সদস্য হিসেবে স্থলপথে কোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় কানাডা ঐতিহাসিকভাবে প্রস্তুতিহীন ছিল, যা এখন পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। এই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় কানাডার প্রতিরক্ষা প্রধান সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর কলেবর বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন, যার পরিকল্পনায় ৩ লাখ স্বল্প প্রশিক্ষিত বেসামরিক নাগরিককে বাহিনীতে যুক্ত করার কথাও রয়েছে। শ্মিটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের ৫১তম অঙ্গরাজ্যের বক্তব্য আমেরিকানরা গুরুত্ব না দিলেও কানাডীয়রা সেটিকে যথেষ্ট উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন।

তবে রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ারফোর্সের সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার কোটসের মতে, দীর্ঘদিনের মৈত্রী ও পারস্পরিক নিরাপত্তার কারণে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের কথা কল্পনা করা কঠিন। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে দুই দেশই আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে। তিনি মনে করেন, কোনো সংঘর্ষ হলে তা সরাসরি সামরিক আক্রমণের চেয়ে সাইবার হামলার মতো পরোক্ষ পদ্ধতি দিয়ে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৮ ও ১৯ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কানাডার জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং ১৮১২ সালের যুদ্ধে আমেরিকান বাহিনী কানাডায় হামলা চালিয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরও কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি নিয়ে সতর্ক ছিল। রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ারফোর্সের ৩৪ বছরের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ক্রিস্টোফার কোটস বলেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের কথা ভাবাই কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক সবসময় ভালো ছিল না দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুই দেশ ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়।

চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত গ্লোব অ্যান্ড মেইলের এক সামরিক মডেল অনুযায়ী, যদি কখনো বড় ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে কানাডার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্রগুলো মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বিপর্যস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। তখন কানাডীয় বাহিনী গেরিলা যুদ্ধের কৌশল নিতে পারে এবং ফ্রান্স বা বৃটেনের মতো মিত্রদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সামরিক সহায়তা চাইতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কানাডার প্রতিরক্ষা ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে এবং তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে ভাবছে।

ম্যাথিউ শ্মিট আরও বলেন, কানাডা দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না। বিশাল সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন বাহিনীর অনেক সদস্য কানাডার বিরুদ্ধে যুদ্ধের আদেশকে অনৈতিক মনে করে পদত্যাগ করতে পারেন। নিয়মিত যৌথ প্রশিক্ষণের ফলে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে, তাও যুদ্ধের ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে। তবে সবশেষে যদি যুদ্ধ গড়ায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হতে পারে কানাডার বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ ও তেল খনি দখল করা। যদিও শ্মিটের ভাষায়, সমানে সমানে লড়াই হলে কানাডীয় সেনারাও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা রাখে। ন্যাটো মিশনে দায়িত্ব পালন করা কোটস বলেন, সামরিক প্রতিরক্ষার বহু ক্ষেত্রে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের তার প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ