ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে পরাজিত করেছে ব্রাজিল। ম্যাচটিতে প্রথমার্ধেই পিছিয়ে পড়েছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা, তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। আগের ১০ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যত গোল হয়েছিল, এই একটি ম্যাচেই তারা তত গোল করেছে। ম্যাচটিতে আনচেলত্তির অধীনে এটি ব্রাজিলের ১৯ ম্যাচে ১১তম জয়। চার দিন আগে একই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে ব্রাজিলের লেগেছিল ৯৫ মিনিট। কার্লো আনচেলত্তির দলের আক্রমণ তখন ততটা ধারাল লাগছিল না।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ভ্যান্দারসনের নিয়ন্ত্রিত টাচ এবং জোরালো শটে গোলটি আসে। তবে পাল্টা আক্রমণে অস্ট্রেলিয়া দারুণ লড়াই করে। কর্নার থেকে আলেসান্দ্রো চিরকাতির ফ্লিক থেকে ১-১ সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। ভিএআরের সহায়তায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। বিরতির ঠিক আগে কনর মেটক্যালফের বাঁ পায়ের বুলেট শট থেকে গোল করে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তবে এই লিড বেশিক্ষণ টেকেনি। প্রথমার্ধেই হ্যারি সুটারের ফাউলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে রাফিনিয়া গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান। এটি ছিল রাফিনিয়ার মৌসুমে ১৫তম গোল। ভ্যান্দারসনের এক টাচে নিয়ন্ত্রণ, আরেক টাচে জালের ওপরের কোণে জোরাল শট। পাল্টা আক্রমণের কৌশলই ছিল তাদের ভরসা। কিন্তু বলে তাঁর প্রথম স্পর্শটাই হয়ে যায় আলগা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে দুই দলেরই মেজাজ বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এনদ্রিক এবং সুটারের বাগ্বিতণ্ডায় ম্যাচের উত্তাপ বাড়ে। তবে ব্রাজিল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাটব্যাক থেকে ব্রুনো গিমারাইস গোল করে ব্রাজিলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর নেস্টরি ইরানকুন্দা ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করলে ব্রাজিল আবারও পেনাল্টি পায়। এবার পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন ভিনিসিয়ুস নিজেই। এর আগে এনদ্রিক ও ভিনিসিয়ুসের সম্মিলিত আক্রমণ এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের হেডে অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ দুর্দান্ত কিছু সেভ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসে ব্রাজিল। জ্যাকসন আরভিনের দুর্দান্ত দৌড়ের পর তেতে ইয়েঙ্গির শট ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয়েছে ব্রাজিলকে। নেস্টরি ইরানকুন্দার গতি সামলাতে জেয়ার কুনিয়ার ছুটে যাওয়া ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত পাসে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।