বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার নেপথ্যে জমির মালিকানার দ্বন্দ্ব দেশে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ১১০০ ছাড়ালো অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ব্রাজিলের ৪-২ গোলের জয় শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা পাঁচদিনের ছুটির অপেক্ষায় সরকারি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ পাকিস্তানের আকাশসীমা: রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহন কেন আটকে গেল? তেলনির্ভরতা কাটিয়ে বৈদ্যুতিক জ্বালানিতে রূপান্তরের ঐতিহাসিক সুযোগ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠক ১০ এয়ারবাস কেনার চুক্তি অক্টোবরে: বিমানমন্ত্রী

১০ এয়ারবাস কেনার চুক্তি অক্টোবরে: বিমানমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি আগামী অক্টোবরে হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, আমরা এয়ারবাস কিনছি এবং ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজ হাতে পাওয়া নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা থাকায় সরকার বিকল্প পথেও উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। মন্ত্রী বলেন, এসব উড়োজাহাজ একসঙ্গে দেশে আসবে না।

বিমানের বহর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে মোট ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও এর মধ্যে দুটি প্রায় অকেজো বা গ্রাউন্ডেড অবস্থায় রয়েছে। কার্যত ১৭টি উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা বিমানের সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। মন্ত্রী জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বর্তমান বহরের আরও বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ পুরোনো হয়ে যাবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বহর বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এই ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বর্তমান ১৭টি উড়োজাহাজের সঙ্গে বিমান আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে এবং অনেকগুলো অব্যবহৃত স্লট কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টি।

বোয়িং ও এয়ারবাস নিয়ে সরকারি অবস্থান

এর আগে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে, যার মধ্যে সর্বশেষ ১১টি উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৫-৩৬ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। নতুন উড়োজাহাজ পাওয়ার আগ পর্যন্ত লিজের মাধ্যমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে বর্তমানে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করছে উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও সিডনি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সহজ হবে। এছাড়া বর্তমানে জাপানে একটি ফ্লাইট চালু রয়েছে এবং সেখানে দ্বিতীয় ফ্লাইট চালুর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম বোয়িং উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে দেশে আসার কথা।

চাপের মুখে কেনা হচ্ছে না

এয়ারবাস কেনার বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা বিশেষ শর্ত রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনো প্রকার চাপে নয়, বরং দেশের প্রয়োজনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কোনো চাপে কিছু করছি না, আমাদের নিডসের কারণেই করছি। দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের স্বার্থ ও নিজস্ব সুবিধা বিবেচনা করেই কোন দেশ থেকে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে এবং কার কাছ থেকে কিনলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে, সেসব বিষয় নিয়েই সরকার কাজ করছে।

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও সেবার মান

অ্যাভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বহরে উড়োজাহাজ বাড়লে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে টিকিটের দাম কমানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে। মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা মনে করি, আমাদের অ্যাভিয়েশন খাত শক্তিশালী করা দরকার। নিজস্ব এয়ারলাইনসের মাধ্যমে দেশের বেশি যাত্রী পরিবহন করা গেলে এ খাত থেকে আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থ দেশের ভেতরেই থাকবে। সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের আধিপত্য বাড়বে এবং দেশের পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ