বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বহনকারী কার্গো বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা অতিক্রমের অনুমতি না পাওয়ায় প্রকল্পটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সময়ে এই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কোনো কূটনৈতিক জটিলতা বা ইচ্ছা করে বাধা দেয়ার ঘটনা হিসেবে অস্বীকার করা হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তান তার সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা स्थित পাকিস্তান হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি মূলত ফ্লাইট রুট, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কারিগরি ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার একটি প্রক্রিয়াগত বিষয়। তাদের মতে, কূটনৈতিক ফ্লাইট বা আকাশসীমা ব্যবহারের আবেদনগুলো নির্ধারিত প্রটোকল ও নিয়মনীতি মেনে যাচাই-বাছাই করা হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, যার ফলে মাঝেমধ্যে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসা অস্বাভাবিক নয়। তাই একে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি হিসেবে না দেখে প্রকৃত প্রেক্ষাপটে দেখার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, কূটনৈতিক ফ্লাইট পরিচালনা এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির আবেদনগুলো নির্ধারিত নিয়ম ও বেসামরিক বিমান চলাচল-সংক্রান্ত প্রটোকল অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিবেচনা করা হয়। আর সেই সমন্বয় প্রক্রিয়ার কারণে কোনো কোনো সময় ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে। পাকিস্তান হাইকমিশন আরও বলেছে, বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত না করে এর প্রকৃত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত। এখন নতুন করে ফ্লাইটের সময় নির্ধারণ করতে হতে পারে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমানটি কেন পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পায়নি, তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ফ্লাইটটি আসার জন্য বিমানবন্দরে সব ধরনের নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা তাদের জানান যে, প্রয়োজনীয় আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। এ অবস্থায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নতুন করে জ্বালানি পৌঁছানোর সময়সূচি প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মার তীরে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প। রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এখানে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউনিটের জন্য অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান বাংলাদেশে সফলভাবে আনা হয়েছিল। দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে বর্তমানের এই বিলম্ব পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি ও নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। রাশিয়ার স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি করপোরেশন- রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।