বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার নেপথ্যে জমির মালিকানার দ্বন্দ্ব দেশে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ১১০০ ছাড়ালো অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ব্রাজিলের ৪-২ গোলের জয় শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা পাঁচদিনের ছুটির অপেক্ষায় সরকারি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ পাকিস্তানের আকাশসীমা: রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহন কেন আটকে গেল? তেলনির্ভরতা কাটিয়ে বৈদ্যুতিক জ্বালানিতে রূপান্তরের ঐতিহাসিক সুযোগ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠক ১০ এয়ারবাস কেনার চুক্তি অক্টোবরে: বিমানমন্ত্রী

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠক

প্রতিবেদকের নাম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। সফরকালে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ামের বরাতে এই বৈঠকের বিষয়টি সামনে আসে। এর আগে ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে নেতানিয়াহুর এই গোপন সফর নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল, যা পরে সরকারিভাবে সত্য প্রমাণিত হয়। ওয়ামের তথ্যানুযায়ী, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যকার আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিদ্যমান অবস্থা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপায়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আবুধাবি সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু।

গোয়েন্দা সতর্কবার্তা নিয়ে বিতর্ক ও নেতানিয়াহুর অবস্থান

এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তাপ বিরাজ করছে। আগামী অক্টোবরে দেশটিতে নেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এই সময়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজে একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্যাপক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় দশ দিন আগে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সরাসরি ফোন করে নেতানিয়াহুকে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের হুমকি সম্পর্কে শেখ মোহাম্মদ শুধু নেতানিয়াহুকেই নয়, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকেও আগাম বার্তা দিয়েছিলেন।

আইনি ব্যবস্থার হুমকি ও নেপথ্যের ঘটনা

  • নেতানিয়াহুর কার্যালয় হারেৎজের প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
  • প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, গত বছরের ওই হামলার আগে নেতানিয়াহু এমন কোনো আগাম গোয়েন্দা তথ্য বা সতর্কবার্তা কখনোই পাননি।
  • এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী হারেৎজে পত্রিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
  • ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, যার ধারাবাহিকতায় উভয় রাষ্ট্র এখনো নানা পর্যায়ে যোগাযোগ বজায় রাখছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফরটি মূলত আবুধাবির প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্ব বহনকারী এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনের উপায়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনার বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো পুরোপুরি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মতে, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজনে দুই দেশের মধ্যে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। তবে গোয়েন্দা তথ্য সংক্রান্ত বিতর্কটি এই সফরের কূটনৈতিক আবহকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। নেতানিয়াহুর সফর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এবং হারেৎজের প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি এখন ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে এই সফর আঞ্চলিক রাজনীতির সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ