সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৈধ মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মনোনয়নপত্র অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়: বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: পদত্যাগ করলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নুরুল করীম বসুন্ধরায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সাবেক মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন খারিজ কিম জং উনের সঙ্গে পুরোনো ছবি শেয়ার করে সুসম্পর্কের বার্তা দিলেন ট্রাম্প অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মৃত্যু: প্ররোচনার মামলায় প্রেমিক হাসিবুর রহমান গ্রেপ্তার ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে লুটপাট হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী টানা তিন পেনাল্টি মিসের হতাশা: ন্যাশভিলের কাছে বড় ব্যবধানে হারল ইন্টার মায়ামি প্রেক্ষাপট: ২৮ হাজার কোটি টাকা লুটপাটে নেতৃত্ব দেওয়া কে এই মাজেদুর?

গ্যাস সংকট নিরসনে সময় প্রয়োজন, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির

প্রতিবেদকের নাম

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় আয়োজিত একটি কৃষিবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সংকট সমাধানে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের মতো দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়ের প্রয়োজন রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানার ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় তা অর্ধেকেরও কম। তিনি আরও বলেন, বর্তমানের এই গ্যাস সংকট মূলত আগের সরকারের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার।

গ্যাস ঘাটতি মেটানোর প্রধান উপায় হিসেবে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাপেক্স ও তাদের অধীনস্থ বিদেশি কোম্পানিগুলো এ কাজে নিয়োজিত থাকলেও, অনুসন্ধান থেকে কবে নাগাদ কতটুকু গ্যাস পাওয়া যাবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এছাড়া এলএনজি আমদানি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নতুন এফএসআরইউ স্থাপন এবং সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পাইপলাইন বসানোর মতো জটিল প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সহায়তায় বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে এলএনজি স্থানান্তর করে সরবরাহের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো বর্তমানে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির অবনতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ৫ থেকে ১০ দিনে দুটি এফএসআরইউর একটিতে সরবরাহ সমস্যা এবং অন্যটির বয়লার নষ্ট হওয়ার কারণে সংকট তীব্রতর হয়েছিল। ইতিমধ্যে একটি এফএসআরইউতে গ্যাস ভরা শুরু হয়েছে এবং অন্যটির একটি বয়লার মেরামত করা হয়েছে। আরেকটি বয়লার মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। দুটি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে পরিস্থিতি প্রায় এক মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গরমের মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়, যা শীতকালে অনেক কম থাকে। তাই বর্তমান পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়নের জন্য আগের বছরগুলোর একই সময়ের বিদ্যুৎ ও লোডশেডিংয়ের পরিসংখ্যান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

অতীতে দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মাটির নিচে গ্যাস অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তিনি বলেন, গত ৫ থেকে ১০ দিনে পরিস্থিতি কিছুটা বেশি খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল দুটি এফএসআরইউর একটি থেকে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা এবং অন্যটির বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়া।

পরিস্থিতি স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের সংকটে শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাসাবাড়িতেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

গ্যাসের সংকটে শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাসাবাড়িতেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ