নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর আইনজীবী জিয়াউল ইসলামসহ তিনজনকে একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন জিয়াউল ইসলামের ছোট ভাই আতিকুল ইসলাম এবং আরেক আইনজীবী মাহবুবুর রহমান। তবে তাঁরা কেউ ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। বুধবার সকালে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের মাধ্যমে তাঁদের আদালতে পাঠিয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার একটি পুলিশের দল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের আল্লামা ইকবাল রোড এলাকা থেকে জিয়াউল ইসলাম ও আতিকুল ইসলামকে আটক করে। একই সময়ে শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার বাসা থেকে মাহবুবুর রহমানকে আটক করা হয়। ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি পুরোনো মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জিয়াউল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচিত। সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় জামিন পান আইভী। ওই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানির জন্য আদালত আগামী ১২ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আদালত থেকে বেরিয়ে আসার সময় আইভী জয় বাংলা স্লোগান দেন, সে সময় আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম তাঁর পাশে ছিলেন। পরে আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আইভী বলেন, ‘জয় বাংলাকে দাবাইয়া রাখা যাবে না। তখন আদালত প্রাঙ্গণে তাঁকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। আন্দোলনে সাংস্কৃতিক জোট জোরালোভাবে রাজপথে ছিল।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা। জোটের উপদেষ্টা রফিউর রাব্বি জানান, জিয়াউল ইসলাম ও আতিকুল ইসলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত থাকার মানে এই নয় যে কেউ অপরাধী। নতুন করে তাঁদের এভাবে মামলায় জড়ানো বিচারব্যবস্থাকে জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দাবি করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আদালত চত্বরে আইভীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ধরতে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এরপরই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।