শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাজেক থেকে ফেরার পথে আতঙ্কে পর্যটকরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ড. আব্দুল মঈন খানকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি সরাইল থানায় ওসি ও রুমিন ফারহানার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল স্থাপনায় আঘাতের হুমকি ১৯৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করল এনসিপি নতুন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও এআই অবকাঠামো ধ্বংসের ১৪ বছর বয়সে বুর্জ খলিফায় এআই স্টার্টআপের মালিক জয়নাম রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করল সৌদি সৌদিতে নিরাপত্তাঝুঁকি: ঢাকা থেকে দাম্মাম-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট স্থগিত

৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ: গভীর সংকটের আশঙ্কায় অর্থনীতিবিদরা

প্রতিবেদকের নাম

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এক নজিরবিহীন সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো দেশটির জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ লাখ কোটি ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি অতিরিক্ত ব্যয়, ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ এবং ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি মেটাতে ধার নেওয়ার প্রবণতাই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রায় ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার ট্রেজারি সিকিউরিটি হিসেবে জনগণের কাছে রয়েছে এবং ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অভ্যন্তরীণ ঋণ।

এক দশকেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, গত কয়েক বছরে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নতুন করে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে করোনা মহামারির দুই বছরে, যখন ট্রাম্প ও জো বাইডেন উভয় প্রশাসনের অধীনেই বিপুল সরকারি ব্যয় ও ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বাজেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো দীর্ঘ দিন ধরেই এই ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছিল। কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের (CRFB) প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিয়াস জানান, মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিশাল ঋণের বোঝা কেবল সরকারি খাতায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

ঋণ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি বন্ডের সুদের হারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বুধবার বড় ধরনের নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন।

অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • বন্ড বাইব্যাক: ১০ থেকে ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় কার্যক্রমের আকার দ্বিগুণ করা হয়েছে।
  • বন্ড পুনঃক্রয় লক্ষ্যমাত্রা: প্রতিটি কার্যক্রমে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পুনঃক্রয় করা হবে।
  • ঋণ বৃদ্ধির প্রভাব: বাড়ি কেনার বন্ধকী ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যবসায়িক ঋণের সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী।
  • আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি: ইরান কর্তৃক মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের আশঙ্কায় মার্কিন জেনারেলের উদ্বেগ প্রকাশ।
  • পররাষ্ট্র ও শ্রম ইস্যু: কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক ও জনশক্তি খাতে সহযোগিতার আলোচনা।
  • আইনি ও অন্যান্য ঘটনা: হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিলের রিট এবং সামিটের ৭ পরিচালকের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলা।
  • স্বর্ণের বাজার: দেশে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ঋণ ও সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি ভবিষ্যতে আরও গভীর আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা সরকারি বন্ডের বিপরীতে বাড়তি মুনাফা দাবি করায় সরকারের ওপর ঋণের চাপ আরও বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাকি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে দুই প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজস্বনীতি এবং দীর্ঘদিনের কর ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতাকে দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং সর্বশেষ রেকর্ড মাইলফলকটি ইতোমধ্যেই আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে। চাকরির আরও তথ্য: এর ফলে মর্টগেজ ও গাড়ির মতো জিনিসের জন্য ঋণের খরচ বাড়ছে, বিনিয়োগের জন্য কম অর্থ হাতে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুরি কমছে এবং পণ্য ও পরিষেবার দাম আরও বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ হতে যুক্তরাষ্ট্রের সময় লেগেছিল ১৯৮১ সাল পর্যন্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি ২৫ বিলিয়ন ডলারের ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড নিলামে ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ সুদে বিক্রি হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সূত্র: রয়টার্স।
  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বামীর মরদেহের পাশে অশ্রুসিক্ত দীপু মনি।
  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৫ ডলারের বিদ্যুতে ২৭ মিনিট উড়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বৈদ্যুতিক বিমান।
  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা চিন্তাও করিনি, ইরান আমাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে দেবে: মার্কিন জেনারেল।
  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারতের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্থাপন হবে না।
  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সামিটের ২ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি, মামলার মুখে ৭ পরিচালক।
  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল কত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ