যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এক নজিরবিহীন সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো দেশটির জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ লাখ কোটি ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি অতিরিক্ত ব্যয়, ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ এবং ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি মেটাতে ধার নেওয়ার প্রবণতাই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রায় ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার ট্রেজারি সিকিউরিটি হিসেবে জনগণের কাছে রয়েছে এবং ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অভ্যন্তরীণ ঋণ।
এক দশকেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, গত কয়েক বছরে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নতুন করে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে করোনা মহামারির দুই বছরে, যখন ট্রাম্প ও জো বাইডেন উভয় প্রশাসনের অধীনেই বিপুল সরকারি ব্যয় ও ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বাজেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো দীর্ঘ দিন ধরেই এই ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছিল। কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের (CRFB) প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিয়াস জানান, মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিশাল ঋণের বোঝা কেবল সরকারি খাতায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
ঋণ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি বন্ডের সুদের হারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বুধবার বড় ধরনের নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ঋণ ও সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি ভবিষ্যতে আরও গভীর আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা সরকারি বন্ডের বিপরীতে বাড়তি মুনাফা দাবি করায় সরকারের ওপর ঋণের চাপ আরও বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাকি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে দুই প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজস্বনীতি এবং দীর্ঘদিনের কর ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতাকে দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং সর্বশেষ রেকর্ড মাইলফলকটি ইতোমধ্যেই আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে। চাকরির আরও তথ্য: এর ফলে মর্টগেজ ও গাড়ির মতো জিনিসের জন্য ঋণের খরচ বাড়ছে, বিনিয়োগের জন্য কম অর্থ হাতে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুরি কমছে এবং পণ্য ও পরিষেবার দাম আরও বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ হতে যুক্তরাষ্ট্রের সময় লেগেছিল ১৯৮১ সাল পর্যন্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি ২৫ বিলিয়ন ডলারের ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড নিলামে ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ সুদে বিক্রি হয়েছে।