ইনডেক্সনিউজ ডেস্ক ঃ সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখ সার্ভিস এ যুক্ত হচ্ছে বি আই ডব্লিও টিসি এর নির্মান সম্পন্ন হওয়া নতুন যাত্রিবাহী জাহাজ “এম ভি সুগন্ধা”।
জাহাজ টি ঢাকা – হাতিয়া (নলচিরা) ঘাট নৌ রুটে চলাচল করবে। চট্রগ্রাম এর ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড এ বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌ পরিবহন সংস্থা (BIWTC) এর যাত্রি বাহী জাহাজ বহর রকেট সার্ভিসের জন্য, WMSL, IFIC ব্যাংক এর নির্মাণ কালীন আর্থিক সহযোগীতায় ৬৮.১১ কোটি টাকা ব্যয় এ অভ্যান্তরীন নৌ পথ কে টার্গেট করে (- ঢাকা – চাঁদপুর – বরিশাল – হুলারহাট – মোড়লগঞ্জ ) ৭৬৪ জন যাত্রী ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন অত্যাধুনিক ২ টি যাত্রীবাহি জাহাজ, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছিলো।
দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ৪ মাস পর জাহাজ টি সার্ভিসে আসছে। পদ্মা সেতুর প্রভাবে ঢাকা – বরিশাল – মোড়লগঞ্জ রুটে যাত্রিবাহী সার্ভিস বন্ধ থাকায়, উপকুলীয় নৌ রুটে যাত্রি দের চাহিদা এর প্রেক্ষিতে জাহাজ টি যুক্ত হচ্ছে ঢাকা – হাতিয়া রুটে।
জাহাজ দুটির নকশা নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ এর স্বনাম ধন্য নেভাল আর্কিটেক্ট ফার্ম “মেরিন হাউজ লিমিটেড” থেকে । পরবর্তীতে দীর্ঘ কয়েক বছর নির্মান কাজ বন্ধ থাকার পর, জাহাজ দুটির সার্ভিসে আসা শুরু হলো।
প্রাথমিক অবস্থায় জাহাজ দুটির নাম প্রস্তাবিত হয়েছিলো এম ভি বঙ্গমাতা ও এম ভি বঙ্গতরী, তবে সম্প্রতি জাহাজ দুটির নাম পরিবর্তন হয়েছে। জাহাজ দুটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান বহরে এ থাকা এম ভি বাঙালি বা এম ভি মধুমতি এর চেয়ে অল্প একটু ছোট হয়েছে ।
মুল কাঠামো, ফ্রন্ট সাইড, ব্যাক সাইড, দুই পাশের ডিজাইন সহ সম্পূর্ণ নতুন একটি স্বতন্ত্র নকশা ও ক্রুজ শিপ এর আদলে তৈরি হয়েছে । থাকছে প্রাইভেট ব্যাল্কনি ও সংযুক্ত বাথরুম সহ কেবিন ।
জাহাজ দুটি সাইড বার্থিং এর সাথে সাথে নোজ বারথিং এর উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে, ফলে এখন কার বাঙ্গালি বা মধুমতি এর মত সাইড বারথিং করতে গিয়ে বেশী সময় বা বেশি জায়গা লাগবে না । জাহাজ টিতে যাত্রীদের প্রবেশ পথ থাকছে সম্মুখ অংশেই ।
৩য় তলার পেছনে ওপেন ডেক থাকছে না তবে, পেছনের ডিজাইন মোটামুটি আকর্ষণীয় হয়েছে । ভেতরের কেবিন, সিট, বা ইন্টেরিয়র প্ল্যান এও থাকছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ।
থাকছে যথাযথ শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যাবস্থা সহ পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ এর ব্যাবস্থা । আর নিরাপত্তা ও স্ট্যাবিলিটি এর ব্যাপারে নাই বা বললাম ।
জাহাজ দুটিতে ইয়ানমার (জাপান) মিডিয়াম স্পীড সম্পূর্ণ নতুন দুটি করে ইঞ্জিন স্থাপন করা হয়েছে । ইয়ানমার রিডাকশন গিয়ার ও ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে ।
চলুন এক নজরে দেখে নিই জাহাজ দুটির সংক্ষিপ্ত স্পেসিফিকেশনঃ
নাম: “এম ভি সুগন্ধা” ও “এম ভি রুপসা”
দৈর্ঘ্যঃ ৭৪.২২ মিটার বা ২৪৩ ফিট।
প্রস্থঃ ১২.৫০ মিটার বা ৪১ ফিট।
লোডেড ড্রাফটঃ ১.৬০ মিটার বা ৫.২৫ ফিট।
গভীরতাঃ ৩ মিটার বা ৯.৮৪ ফিট।
ক্লাসঃ রিনা (ইতালি)
মুল প্রপোলেশন ইঞ্জিনঃ
মডেলঃ ইয়ানমার 6N21A-UW মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন (জাপান)
ইঞ্জিন টাইপঃ ৪ স্ট্রোক (4 Stroke) ডিজেল
সিলিন্ডার সংখ্যাঃ ৬ টি (ইনলাইন)
ইঞ্জিন ক্ষমতাঃ ৭৩৬ কিলোওয়াট বা ১০০০ এইচ পি ।
ইঞ্জিন স্পীডঃ ৮০০/প্রতি মিনিট
ইঞ্জিন সংখ্যাঃ ২ টি
ইঞ্জিন পজিশনঃ ইন বোর্ড
গিয়ার বক্সঃ
মডেলঃ ইয়ানমার YX-1000 (জাপান)
গিয়ার রেশিওঃ ২.০৩
প্রপেলারঃ ফিক্সড পিচ প্রপেলার:* ২ টি
জেনারেটরঃ জাহাজ টির জেনারেটর এর ব্যাপারে সঠিক তথ্য পরবর্তী আপডেট এ জানানো হবে ।
ব্রিজ ইকুইপমেন্টঃ রাডার, ইকোসাউন্ডার, জি পি এস, ভি এইচ এফ, এস এস বি, স্পিড লগ, ম্যাগনেটিক কম্পাস, জাইরো কম্পাস, এনোমোমিটার, ইঞ্জিন কন্ট্রোল রিমোট সিস্টেম সহ প্রয়োজনীয় আরও অনেক যন্ত্রাদি থাকবে।
স্টিয়ারিংঃ ইলেক্ট্রা হাইড্রোলিক উইথ জয় স্টিক কন্ট্রোলার ।
গতিঃ গড়ে ১২.০০ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২৩ কি.মি. / ঘন্টা।
বটমঃ ডাবল বটম।
ভি আই পি/ফ্যামিলি স্যুটঃ ৪ কেবিন/৮ জন।
প্রথম শ্রেনী কেবিন (ডাবল) : ২৭ টি/ ৫৪ যাত্রী।
২য় শ্রেনী কেবিন (ডাবল) : ১৫ টি/ ৩০ যাত্রী।
২য় শ্রেনী চেয়ারঃ ৯০ যাত্রী ।
মহিলা ও শিশুঃ ৮০ যাত্রী ।
ডেক শ্রেনীঃ ৫০২ যাত্রী।
মোট যাত্রী ধারন ক্ষমতা ৭৬৪ জন।
মাস্টার, ইঞ্জিন অফিসার, সেকেন্ড অফিসার সহ সকল ক্রু দের জন্য ৪৪ জন এর আবাসন ব্যাবস্থা থাকবে ।
জাহাজ টির ত্রিমাত্রিক ডিজাইন কার্টেসি – মেরিন হাউস লি.