শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার ” বেগম রাবেয়া মেমোরিয়াল হাই স্কুল” কে জাতীয়করণের দাবী এলাকাবাসীর যমুনার নদীতে গোসল করতে নেমে ২ মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু রায়গঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নিহত ১: গ্রেফতার দুই দুর্নীতি আড়াল করতে গফরগাঁওয়ের রাবেয়া স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের সাদা কাগজে সাক্ষর দিতে বলেন দুর্নীতিবাজ আফাজ উদ্দিন ও সাখাওয়াত হোসেন “সতর বাড়ী গ্রামে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার জন্য গফরগাঁও এর মাননীয় সংসদ সদস্যের নিকট এলাকাবাসীর দাবী “ চাঁদপুরের মেঘনার ঘূর্ণিস্রোতে কার্গোডুবিতে ৫ হাজার বস্তা ধান-চাল পানিতে ভবিষ্যতে জনগণ আর রাজনীতিবিদদের সম্মান করবে না: জামায়াত আমির প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে উচ্ছ্বসিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরত আনতে পঞ্চদশ সংশোধনীর আপিলের রায় কাল ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত অফিসার্স ও ফোর্সদের প্রশংসনীয় পুরস্কার সম্মাননা প্রদান

সিরাজগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর স্থাপনা আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ

প্রতিবেদকের নাম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ সাদা মার্বেলের ঝলমলে আভা, দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ ও সুউচ্চ মিনারের সমন্বয়ে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় দাঁড়িয়ে আছে নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক নকশার মিশেলে নির্মিত এই মসজিদ এখন শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং স্থাপত্য সৌন্দর্যের জন্যও ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

দূর থেকেই চোখে পড়ে সাদা মার্বেলে মোড়া বিশাল গম্বুজ ও সুউচ্চ মিনার। সূর্যের আলো পড়লে পুরো স্থাপনাটি যেন ঝলমল করে ওঠে। ভোরের কোমল আলো কিংবা বিকেলের শেষ রোদে মসজিদের সৌন্দর্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা দর্শনার্থীদের মনে প্রশান্তির অনুভূতি জাগায়। এটি সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের পৌর ভবন সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।

আধুনিক নির্মাণশৈলীর কারণে মসজিদটি ইতোমধ্যে একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। ছুটির দিনগুলোতে এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। অনেকেই মসজিদের সামনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদ নির্মাণের পর থেকে বেলকুচি উপজেলার পরিচিতিও বেড়েছে।

মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বিঘা জমির ওপর নির্মিত মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। রহমত গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রয়াত শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকার নিজ উদ্যোগে ইসলামিক নকশায় এর পরিকল্পনা করেন। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে টানা সাড়ে চার বছর ধরে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ জন শ্রমিকের পরিশ্রমে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।

মসজিদটির মিনারের উচ্চতা প্রায় ১১০ ফুট এবং পুরো স্থাপনার আয়তন প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুট। মসজিদের দেয়ালে আয়াতুল কুরসি, সূরা আর-রহমানসহ পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত খচিত রয়েছে। ছোট ছোট গম্বুজ, মিনারের নকশা, রঙিন পাথর ও কারুকাজে পুরো মসজিদ কমপ্লেক্সটি নান্দনিক রূপ পেয়েছে।

মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকার তার ছেলে আল-আমান এবং মা বাহেলা খাতুনের নামে ‘আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ’ নামকরণ করেন। ২০২০ সালের আগস্টে তার মৃত্যুর পর মসজিদের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেন তার ছেলে আল-আমান।

মসজিদের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় সাত হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। ভেতরের স্থান ও আঙিনা মিলিয়ে প্রায় আট হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। ইতালি ও ভারত থেকে আনা উন্নতমানের মার্বেল পাথর এবং কাঠের কারুকাজে মসজিদের বিভিন্ন অংশ সজ্জিত করা হয়েছে।

মসজিদের খাদেম আব্দুল মান্নান জানান, ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এখানে বর্তমানে দুইজন ইমাম, চারজন খতিব ও ছয়জন খাদেম দায়িত্ব পালন করছেন। মসজিদের ভেতরে ছাই রঙের বিশাল গম্বুজ, ঝকঝকে সাদা টাইলস এবং মার্বেল পাথরে মোড়ানো পিলার রয়েছে। তৃতীয় তলায় গম্বুজের কাছে এবং বিভিন্ন স্থানে চীন থেকে আনা ঝাড়বাতি স্থাপন করা হয়েছে।

মসজিদের চারপাশে সাদা পিলার, সুউচ্চ জানালা এবং সবুজ ঘাসের পরিকল্পিত বাগান পুরো পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলেছে। রাতে রঙিন আলোকসজ্জায় সৃষ্টি হয় ভিন্ন আবহ। ব্যস্ত সড়কের পাশে অবস্থান করলেও মসজিদ চত্বরে রয়েছে শান্ত পরিবেশ।

মসজিদটিতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের থাকার জন্য মসজিদের পাশে পৃথক কোয়ার্টার, পাঠাগার ও শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে প্রবেশপথের সিঁড়ির পাশে কাঁচে ঘেরা অটো-ফিল্টার পানির মাধ্যমে ওজুর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মনজিদটি নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ