শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নরসিংদীর মাধবদীতে কারখানার (মাসুম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল) ধোঁয়া ও শব্দদূষণের অভিযোগ, এলাকাবাসীর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যেসব দল বিদায় নিয়েছে জর্ডান ম্যাচের আগে সুখবর পেল আর্জেন্টিনা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার দাবি ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার শঙ্কা ছয় দিনের প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু কেপ ভার্দের রূপকথার যাত্রা অব্যাহত, নকআউটে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী আটককেন্দ্রে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জাতিসংঘের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রের্কড ৪৩ বস্তা টাকা

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রের্কড ৪৩ বস্তা টাকা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।

আজ শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় মসজিদটির দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এখন চলছে টাকা গণনা।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মাচারীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ এই ৪৩ বস্তা টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন।

এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এছাড়াও এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ র‍্যাব ও আনসার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, এবার ৬ মাস পর আজ শনিবার সকালে পাগলা মসজিদের ১০টি লোহার দান সিন্দুকসহ অতিরিক্ত তিনটি টিনের ট্রাঙ্ক খোলা হয়েছে।

এতে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। পরে মসজিদের দোতালায় এনে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়েছে। তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। তাই এবার তিনটি টিনের ট্রাঙ্ক বাড়ানো হয়েছিল। আশা করা যাচ্ছে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে।

মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়।

মসজিদটিকে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকা। সেখানে ৬০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১০ আগস্ট রোববার সকালে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্ঠা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন— খুব শিগগিরই দৃষ্টিনন্দন পাগলা মসজিদের ১০ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। আধুনিক তুরস্কের নকশায় বহুমুখী কার্যক্রম সম্পাদনের উপযোগী ইসলামিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে পাওয়া সব টাকা মসজিদের ১৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এফডিআর হিসেবে এ পর্যন্ত ১১৪ কোটি ১৩ লক্ষ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা রাখা আছে, যা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ গরিব, অসহায়, অনাথ ও অসুস্থদের জন্য ব্যয় করা হয়।

এসময় তিনি প্রস্তাব করে বলেছিলেন— স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে এই তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়ার, এতে শিক্ষার সুযোগ বাড়বে।

উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের মধ্যেই দৃষ্টিনন্দন পাগলা মসজিদের ১০ তলা ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। যদিও তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ