নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা দল বিএনপির সঙ্গে জনগণের আবেগ, অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষার যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তা গত ছয় মাসে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে যখন জনগণের ঢল নেমেছিল, বিশ্ব ইতিহাসের সেই বৃহত্তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর আমরা দেখেছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের সময় তার জানাজাতে কীভাবে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। সব শ্রেণিপেশার মানুষ সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিল। এই দলটির প্রতি, নেতৃত্বের প্রতি এবং আজকে যারা সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের প্রতি জনগণের এই অকুন্ঠ ভালোবাসা ও সমর্থন আমরা প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করছি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায়ও প্রধানমন্ত্রী যেখানে গিয়েছিলেন, দেশজুড়ে সেখানে জনস্রোত নেমে এসেছিল। গত ছয় মাসের অজস্র জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী যেখানেই গিয়েছেন, ঠিক একইভাবে জনগণের ঢল নেমেছে। জনগণের সেই আস্থা এবং বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমানে আমাদের যে সরকার, সেটি বারবার দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। সরকারের ছয় মাসের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নির্বাচনী ইশতেহারকে ধারণ করে সেখানকার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া।
মাহদী আমিন বলেন, আজকের এই সরকারের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস। ফ্যাসিবাদ বিরোধী দেড় দশকের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, যেখানে গুম, খুন, হামলা, মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েও বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে ছিল। সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছিল। সেই জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানবাধিকার, বাক স্বাধীনতা ও আইনের অনুশাসন থাকবে—সরকার ঠিক সেটিই নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, গত ছয় মাসে বাক স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করতে দেখেছি, যেখানে একবারের জন্যও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে বাক স্বাধীনতা সীমা লঙ্ঘন করে উসকানি বা অসভ্য আচরণ করা হলেও সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিকে ধারণ করেই জনগণের সরকার এগিয়ে চলেছে।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা দেখেছি অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং স্বতঃস্ফূর্ত সংসদ, যেখানে মাননীয় সংসদ সদস্যরা একে অপরের সমালোচনা করেছেন এবং যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেছেন। দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশ সংসদে পাসের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েমকারী রাজনৈতিক সংগঠনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশে শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বীরশ্রেষ্ঠদের নামে সংসদের গ্যালারির নামকরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে ধারণ করে সরকার পাহাড়-সমতল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের পথে অবিচল রয়েছে।