সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রেক্ষাপট: ৬ মাসে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান হয়েছে: মাহদী আমিন রাজধানীর ডেমরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও চারজন আহত ইরানের বিরুদ্ধে এককভাবে যুদ্ধের সক্ষমতা নেই ইসরায়েলের: আইআরজিসি কর্মকর্তা প্রেক্ষাপট: শোলাকিয়া ঈদগাহের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ মতবিনিময় সভা ভূমধ্যসাগরে ১১ জনের মৃত্যু: নিখোঁজ সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবক বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাব: ৪ বিভাগে ভারি বর্ষণ ও সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত নরওয়েতে মেরু ভালুকের ঘুম ভাঙিয়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকা জরিমানা শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৈধ মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মনোনয়নপত্র

ভূমধ্যসাগরে ১১ জনের মৃত্যু: নিখোঁজ সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবক

প্রতিবেদকের নাম

ভূমধ্যসাগরে খাবার ও পানি ছাড়া প্রায় ১১ দিন ভেসে থাকার পর গ্রিসগামী একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছেন বেঁচে যাওয়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আবদুল করিম। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জের পাঁচ যুবকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। মিশরে চিকিৎসাধীন আব্দুল করিমের বরাতে কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেনও গণমাধ্যমকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে নৌকাটি। কিছুদূর যাওয়ার পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ১১ দিন ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকার পর গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে যাত্রীরা পৌঁছান। আবদুল করিমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে ৩৮ জন বাংলাদেশি ও চারজন সুদানের নাগরিক ছিলেন। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া সাগরে থাকার কারণে প্রচণ্ড গরম ও পানিশূন্যতায় ১১ জন মারা যান। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন বেঁচে থাকা যাত্রীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আবদুল করিম জানান, নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা আর এগোতে পারেননি। নৌকায় পর্যাপ্ত খাবার ও পানি ছিল না। তার চোখের সামনেই নয়জন বাংলাদেশি মারা যান। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পচতে শুরু করেছে এবং দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। তিনি আরও জানান, রাবারের নৌকাটিতে সর্বোচ্চ ২৫ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকলেও এতে ৪২ জনকে তোলা হয়েছিল। মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে স্থানীয় লোকজন নৌকাটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে ২৯ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের অনেকেই ছিলেন অচেতন।

শান্তিগঞ্জের স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিখোঁজ পাঁচ যুবকের মধ্যে রয়েছেন পাগলা শত্রুমর্দান গ্রামের হৃদয় পাল, চিকরকান্দি গ্রামের এনামুল খান, রিপন মিয়া ও মামুন খান এবং রানসি গ্রামের মো. তালহা। হৃদয়ের চাচা কানন পাল জানান, গত ৩১ জুলাই সর্বশেষ হৃদয়ের সঙ্গে তার কথা হয়। তখন হৃদয় জানিয়েছিলেন, ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। কানন পাল বলেন, ওই দিন দু’টি নৌকা ছেড়ে যায়। পরে প্রথম নৌকার একজন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, হৃদয় দ্বিতীয় নৌকায় ছিলেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার কোনো সন্ধান পাননি।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত নেই এবং তাদের পরিবার থেকে বিষয়টি আমাদের অবগত করা হয়নি। এরপরও ভিডিও ফুটেজের বক্তব্যটি সঠিক কিনা আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। প্রসঙ্গত, এর আগে গত মার্চেও লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি নৌকায় অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছিল, যার মধ্যে ১২ জনই ছিলেন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ