শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি

নিউজ ডেস্ক ঃ

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ শুক্রবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। লেবাননে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর, এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে মাত্র দুই দিন আগে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে কেন্দ্র করে গঠিত শান্তি প্রক্রিয়ায় আবারও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান হামলায় ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরাইল জানিয়েছে, তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির পর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় যৌথ প্রাণহানির ঘটনা।

শান্তি চুক্তিটিকে আরও এগিয়ে নিতে এবং এর একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকের নতুন কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন টেলিফোনে কথা বলেছেন।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানায়, আউন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য রুবিওকে ধন্যবাদ জানান ও জোর দিয়ে বলেন, ‘লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাতে জানানো হয়, এ সময় রুবিও লেবাননের হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

এক মুখপাত্র বলেন, তারা পরবর্তী দফার আলোচনার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। বৈঠকটি ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দুইটি সার্বভৌম সরকার দীর্ঘস্থায়ী শান্তির দিকে অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করবে।

তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র ও পুরো লেবাননের ভূখণ্ডে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইসরাইল লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির পক্ষে। তবে এর জন্য হিজবুল্লাহকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হামলা বন্ধ করতে হবে।

এই সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে হয়।

এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হয়।

এই চুক্তির আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল লেবাননের যুদ্ধ বন্ধ করা। ইরান সব সময় জোর দিয়ে বলে এসেছে যে এই সংঘাতকে যে কোনো চুক্তির আওতাভুক্ত করতে হবে।

সেখানে ইসরাইলের চলমান অভিযান ওয়াশিংটনের জন্য জটিল ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ও সংগঠনটির বহু সদস্যকে হত্যা করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ