শহীদ ইসলামি বিপ্লবের নেতার লাশ মুবারকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের দ্বিতীয় দিনে সম্পন্ন হল তাঁর ও তাঁর পরিবারের চার শহীদ সদস্যের জানাজার নামাজ। জানাজার নামাজে ইমামতি করেছেন আয়াতুল্লাহ জাফর সুবহানি।
লাখ লাখ শোকার্ত ও ক্রন্দনরত অনুরাগীর উপস্থিতিতে তিন ধাপে তিনটি জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় কিছুক্ষণ আগে। নামাজ শুরু হয় স্থানীয় সময় সকাল আটটায়।
প্রথম ধাপে শহীদ বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসেইনি খামেনেয়ীর (র) পবিত্র মরদেহের ওপর জানাজার নামাজ আদায় করা হয়।
এরপর দ্বিতীয় ধাপে শহীদ সর্বোচ্চ নেতার কন্যা শহীদা সাইয়্যেদা বুশরা হোসেইনি খামেনেয়ী, মেয়ের জামাই শহীদ মিসবাহ আল-হুদা বাকেরি এবং পুত্রবধু শহীদা জাহরা হাদ্দাদ আদেল (যিনি ছিলেন সাবেক ইরানি সংসদ স্পিকার হাদ্দাল আদেল-এর কন্যা ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসেইনি খামেনেয়ীর স্ত্রী)-এর মরদেহের ওপর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
তৃতীয় ধাপে শহীদ নেতার দুই বছরেরও কম তথা ১৪ মাস বয়সের নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানি-র মরদেহের ওপর জানাজার নামাজ আদায় করা হয়। এই জাহরা হল শহীদ সর্বোচ্চ নেতার কন্যা শহীদা সাইয়্যেদা বুশরা হোসেইনি খামেনেয়ীর শিশু-কন্যা।
এইসব জানাজার নামাজ সকাল ছয়টায় অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও পরে তা সকাল আটটায় অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মানবতার শত্রু মার্কিন সরকার ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর প্রথমেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের এই সদস্যরা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেহরানে নিজ বাসভবনে শহীদ হন।
গতকাল থেকে শুরু হয় এই শহীদদের প্রতি বিদায়ী শোক-সম্মাননা জানানোর গণ-সমাবেশ যাতে এ পর্যন্ত যোগ দিয়েছেন কয়েক মিলিয়ন বা অন্তত ২০ লাখেরও বেশি শোকার্ত ইরানি অনুরাগী। এর আগে শুক্রবারে শোক-সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশ্বের প্রায় একশটি দেশের উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তা ও চিন্তাবিদ বা বুদ্ধিজীবি। ইরান ও ইরাকের নানা শহরে ৬ দিন ধরে শোক-অনুষ্ঠান পালনের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে এবং আজ ছিল এই কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন।