শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাবনায় বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু এআই-নির্ভর আগামীর জন্য যেভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উত্তরাখণ্ডে ৬ আরোহী নিয়ে হেলিকপ্টার নিখোঁজ, বিধ্বস্তের আশঙ্কা শীতের সবজিতে বাজার সয়লাব, তবে চড়া দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা জাপান সফর ফলপ্রসূ, নতুন উচ্চতায় সম্পর্ক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অনিয়মে জড়িত খুলনা রেঞ্জের ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড পাবনায় পুষ্পপাড়া হাটের দুই নেতাকে মৃত্যুর ঘটনায় সৌদি আরবে মক্কা লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন হামলা বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নেওয়ার খবর নাকচ জাপানের

অনিয়মে জড়িত খুলনা রেঞ্জের ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

প্রতিবেদকের নাম

খুলনা রেঞ্জের অধীনে বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত ২৮ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে ক্লোজড বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের তালিকায় এসআই থেকে শুরু করে বাবুর্চি পর্যন্ত বিভিন্ন পদের পুলিশ সদস্য রয়েছেন। মূলত বিভিন্ন থানায় ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ থাকা সদস্যদের বিরুদ্ধে এই শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়েছে।

খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাহিনীর অভ্যন্তরে শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফেরানো হচ্ছে, কারণ অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের ফলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও জনআস্থা ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের আইজিপি মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। এদের মধ্যে থানা পর্যায়ের পাশাপাশি ট্রাফিক ও গোয়েন্দা শাখায় দায়িত্বরত সদস্যরাও রয়েছেন। পুলিশের মূল দায়িত্ব যেখানে আইন প্রয়োগ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেখানে অর্থ বা সুবিধার বিনিময়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে তা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং আইনের শাসন নিয়ে জনমনে অস্পষ্টতা তৈরি করে। এতে অপরাধীরা সুযোগ পায়, আর সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে। বিশেষ করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মামলা গ্রহণ, তদন্ত কিংবা অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সদস্যদের পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা প্রদান করা সত্ত্বেও যদি কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেন, তবে তা বাহিনীর জবাবদিহিতার ঘাটতিকেই নির্দেশ করে। প্রশাসনিক বদলি বা ক্লোজড করার বাইরেও এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণ সাপেক্ষে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, সততার সাথে দায়িত্ব পালনকারী পেশাদার পুলিশ সদস্যদের কাজের পরিবেশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাও বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির পরও যদি কোনো সদস্য অনৈতিক উপায়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত অসততার বিষয় থাকে না; বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির কাঠামোর দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ