দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের মতোই দেশের মানুষ ও শ্রমিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সমুচিত জবাব দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে দেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে। তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দিনরাত পরিশ্রম করছে কীভাবে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়, শিল্পের প্রসার ঘটানো যায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করা যায়। একসময় খুলনা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল ছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরকার এখন দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নিরলস কাজ করছে। যারা দেশের মানুষকে পেছনে ঠেলে দিতে চায় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নস্যাৎ করতে চায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে, সেটিকে এই যড়যন্ত্রকারীরা ভেস্তে দিতে চাইছে।’। কারণ আজ সময় এসেছে দেশ গঠন করার, আজ সময় এসেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার।’।
তারেক রহমান বলেন, যারা বিগত ১৬ বছরে দেশের সম্পদ লুট করেছে এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘যারা বিগত ১৫-১৬ বছরে দেশের অবস্থার, মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনি, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা এদেশ থেকে মানুষের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল, আমরা দেখেছি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে জনতার অভ্যুত্থানে।
৫ আগস্টের জনতার অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া সেই গোষ্ঠী এখন দেশের শিল্প-কারখানা ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। শুধু তাই নয় তারা দেশের মিল কারখানা ভেঙে দিতে চাচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের সম্পদ হলো এই কারখানাগুলো; এগুলো ধ্বংস হলে শ্রমজীবী মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করতে কোনো ষড়যন্ত্রকারীকে সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
ইতোমধ্যে গঠিত মজুরি বোর্ড তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে নতুন সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হবে। এছাড়াও বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি ও বেসরকারি শিল্পকারখানা পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের জেলাগুলো পর্যন্ত নতুন করে শিল্পায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই সেটা হলো- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।”।
এর আগে, সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সিজন-২ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।