বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাতারের ১৩৬ মসজিদে বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজের ঘোষণা দক্ষিণ বাড্ডায় নিউ বি-বাড়িয়া বেকারিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা পোশাক শিল্পে অস্থিরতা পরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শীতকালে সর্বোচ্চ ছয়টি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আবারও বিজয়ী হলেন সোমালীয় বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর মানহীন মেডিকেল কলেজ স্থাপনে ছাড় নেই: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন প্রযুক্তি মন্ত্রী: ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে আসতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৮৬৬ ডিবিসি কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহানকে ডিবি কার্যালয়ে স্থানান্তর

ইরানের কেশম দ্বীপে ফের মার্কিন হামলা, নেপথ্যে কৌশলগত কারণ

প্রতিবেদকের নাম

ইরানের কেশম দ্বীপে আবারও সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ছোট দ্বীপটি বারবার মার্কিন বাহিনীর আক্রমণের মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। তবে ঠিক কী ধরনের আসন্ন হুমকির মুখে মার্কিন সেনারা ছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে ঠিক কি ধরণের হুমকিতে ছিল আমেরিকার সেনারা, তা নিশ্চি করে বলেনি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কেশম দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

স্থানীয় ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, মঙ্গলবার ভোরে কেশম দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ভাষ্যমতে, এমন অনেক হামলা এর আগেও অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগেও গত জুলাই মাসে চালানো বড় ধরনের এক হামলায় আইআরজিসি’র কমান্ড সেন্টার, ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা এবং সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সে সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি ছিল, ওই অভিযানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। কেনই বা এখানে একের পর এক হামলা চালায় তারা।

কেশম দ্বীপটি কেন বারবার হামলার মুখে পড়ছে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে এর ভৌগোলিক অবস্থানে। পারস্য ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত হরমুজ প্রণালির মুখে দ্বীপটির অবস্থান। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল প্রতিদিন এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। তবে সেসব হামলার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, কেশম দ্বীপে ইরানের বিশাল ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, নৌঘাঁটি এবং উন্নত উপকূলীয় সামরিক অবকাঠামো রয়েছে। এসব স্থাপনা ব্যবহার করে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নজরদারি ও সামরিক প্রভাব বজায় রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের অভিমত, এই দ্বীপের সামরিক সক্ষমতা ধূলিসাৎ করতে পারলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নজরদারি ও তৎপরতা অনেকাংশে দুর্বল করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক সম্পদকে নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতার অন্যতম লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠেকানো। ইরান এই নৌপথকে নিজেদের কৌশলগত চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে। তবে চলমান এসব হামলার ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই সংঘাতের মধ্যেই যুদ্ধের অবসান নিয়ে কিছু কূটনৈতিক আলোচনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছেন।

যদিও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা সতর্কবার্তায় বলেছেন, কোনো ধরনের সামরিক হুমকির কাছে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। এছাড়া নতুন কোনো বড় ধরনের হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ