গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের ঘটনায় আনোয়ার হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে প্রতিবেশীর বাড়িতে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে শনাক্ত করেন। পরে একটি নারিকেলগাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এরপর আনোয়ার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার বাবা মারা গেছেন—এটি তিনি বিশ্বাসই করেন না এবং বাবার কবরও দেখেননি। আটকের পর স্থানীয়দের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও জানান, গত দুই দিন তিনি এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন এবং গোপনে তার ছেলে-মেয়েকে দেখার চেষ্টা করছিলেন। নিজেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বা মাদকাসক্ত নন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কারাগারে পাঠালে তাকে মারধর করা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন এই তরুণ। তার আশঙ্কা, কারাগারে গেলে তাকে মারধর করা হবে এবং কেউ জামিনে মুক্ত করতে এগিয়ে আসবে না।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে আনোয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
সেই সময় তার বাবা আব্দুস সামাদ (৬০) তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় ও বুকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুস সামাদের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই আনোয়ার আত্মগোপনে ছিলেন। এই ঘটনায় নিহতের ভাই কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম নিশ্চিত করেছেন, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই আনোয়ার পলাতক ছিলেন এবং স্থানীয় ধাওয়ার পর তাকে আটক করা সম্ভব হয়।