বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জয়পুরহাটে হিজাব পরে বাড়িতে ঢুকে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায় করতে গিয়ে আটক যুবক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার পদে নিয়োগ: আবেদনের সময় বাড়ল দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, চলছে চূড়ান্ত গণনা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা: এক নজরে বিস্তারিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত বলে মন্তব্য অলি আহমদের দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আয়কর রিটার্ন দাখিল: কোন সাতটি খাতের আয় রিটার্নে উল্লেখ করা জরুরি? দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা ও নীতিমালার ওপর জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব ও অপব্যবহার রোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও জনসচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নরওয়ে সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই আশীর্বাদ থেকে দূরে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে জনকল্যাণমুখী করতে ব্যর্থ হলে তা মানবসভ্যতার জন্য ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবের মতো বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ইউএনডিপি ও নরওয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, তথ্যের সততা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখার দায়িত্ব এখন কেবল সফটওয়্যার প্রকৌশলী বা টেক জায়ান্টদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি একটি নতুন ইকোসিস্টেমের দিকে আমাদের ধাবিত করছে, যেখানে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একমাত্র পথ। জহির উদ্দিন স্বপন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ও ব্যবসায়িক কাঠামোর জটিলতা তুলে ধরে বলেন, এসব প্ল্যাটফর্ম মূলত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়, জনকল্যাণের জন্য নয়। সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা ইন্টারনেটের এই ব্যবসায়িক স্বার্থ এক জটিল বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে, যা আমাদের সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে অনেক তরুণ ও পেশাজীবী নিজস্ব সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার চেয়ে এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এই প্রবণতা কাজের মৌলিকত্ব ও সততাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। প্রযুক্তি আমাদের দক্ষতা বাড়াবে ঠিকই, কিন্তু তা যেন আমাদের সৃজনশীলতার চোরাবালিতে নিমজ্জিত না করে, সে বিষয়ে সজাগ থাকা জরুরি। তিনি আইটি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাণ্ডজ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নীতি নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংবাদপত্রের বর্তমান রূপান্তর সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত গণমাধ্যমগুলো এখন তাদের মূলধারার কাজের পাশাপাশি ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করছে। এই পরিবর্তনের যুগে গণমাধ্যম, রাষ্ট্র এবং অরাজনৈতিক অংশীদারদের একযোগে সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বাংলাদেশ থেকে অপতথ্য প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে গণমুখী করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ায় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যের সততা বজায় রাখা এবং সামাজিক সংহতি রক্ষা করা এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ