মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় জাপানি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা চাইলেন জুবাইদা রহমান জাহেদ উর রহমান: আইজিপির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক গণতন্ত্রের সংগ্রামে যুবদল ইস্পাতকঠিন অগ্রবাহিনী: রিজভী পেছাল এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ কর্মীদের বিএমডব্লিউ উপহার দিলেন চীনা রেস্তোরাঁ মালিক বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপানের সীতাকুণ্ডে লরির চাপায় নিহত ৫, হাসপাতালে ৪ যাত্রী তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ দিলো সরকার ঢাকা-চট্টগ্রামের জাতীয় গ্রিডে বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা: এক নজরে বিস্তারিত

প্রতিবেদকের নাম

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হিসেবে স্বীকৃত। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন এবং তার নামেই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত রাষ্ট্রপ্রধানের, সরকারপ্রধানের নয়। সরকারের প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত থাকে।

রাষ্ট্রপতির প্রধান ভূমিকা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য। তবে প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভা তাকে কী পরামর্শ দিয়েছেন, তা কোনো আদালত তদন্ত করতে পারে না।

রাষ্ট্রপতির স্বাধীন সাংবিধানিক ক্ষমতা

সংবিধান অনুযায়ী দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং দ্বিতীয়ত, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় নেতাকেই রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এছাড়া, রাষ্ট্রপতি দণ্ড মার্জনা, স্থগিত বা মওকুফ করার ক্ষমতা রাখেন, যা সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।

অভিশংসন ও দায়মুক্তি

দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক দায়মুক্তি ভোগ করেন। তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারি করা সম্ভব নয়। তবে সংবিধান লঙ্ঘন, গুরুতর অসদাচরণ বা শারীরিক-মানসিক অসামর্থ্যের অভিযোগে তাকে অভিশংসন করা যায়। এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরসহ প্রস্তাব স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয় এবং সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে তা পাস হতে হয়।

নির্বাচন প্রক্রিয়া ও মেয়াদ

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না; জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাকে নির্বাচিত করেন। একজন প্রার্থীকে অন্য একজন সংসদ সদস্য প্রস্তাব করেন এবং অপর একজন সমর্থন করেন। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারিত হয়। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার সংসদীয় পদ শূন্য হয়ে যায়।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ৩৫ বছর পর এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের ঘটনা ঘটল এবং ৬ জন সংসদ সদস্য ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন।

বেতন ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা

  • মাসিক বেতন: ১ লাখ ২০ হাজার টাকা (আয়করমুক্ত)।
  • সরকারি বাসভবন: বঙ্গভবন, যার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়।
  • স্বেচ্ছাধীন তহবিল: বছরে ২ কোটি টাকা, যা বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তায় ব্যয় করা যায়।
  • চিকিৎসা সুবিধা: রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন এবং প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার ব্যয়ও সরকার বহন করে।
  • বিমানভ্রমণ বিমা: বছরে ২৭ লাখ টাকা (২০১৬ সালের আগে যা ছিল ১৫ লাখ টাকা)।
  • অন্যান্য সুবিধা: সরকারি গাড়ি, বিদেশ সফরের ভাতা ও আপ্যায়ন ভাতা।

রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্য বার্ষিক ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে, যার ব্যয়ের কোনো নিরীক্ষা করা হয় না। এছাড়া, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসরের পরও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা ভোগ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই রাষ্ট্রপতির পদটি মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্বের দিক থেকে সর্বোচ্চ হলেও বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে এ ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘটনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০০২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি পদত্যাগ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ