পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রহণ করবেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর ইতোমধ্যে ওই মন্তব্যের ওপর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। অনেকেই দাবি করেছিলেন যে, ওই বক্তব্য থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, তবে পরবর্তী ব্যাখ্যায় আইজিপি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি সে ধরণের কোনো উদ্দেশ্য প্রকাশ করতে চাননি। এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ার পর তিনি তাঁর অবস্থানে অনড় থাকেননি বরং বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।
সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির করা ঢালাও মন্তব্যের বিষয়েও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কোনো ব্যক্তির বক্তব্য যদি ভুলভাবে জনসাধারণের সামনে উপস্থাপিত হয়, তবে তা দ্রুত ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। আইজিপির পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে শুধুমাত্র ব্যাখ্যা দেওয়াটাই যথেষ্ট কি না বা আইজিপির বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না—এ বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর রয়েছে এবং সেই সফর শেষে তিনি এই বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন। কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।