রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
র‍্যাব পরিচয়ে জবি ছাত্রীকে তুলে নেয়ার চেষ্টা: প্রক্টরিয়াল টিমের হস্তক্ষেপে উদ্ধার এআই চ্যাটবটের পরামর্শে পাহাড়ে বিপত্তি: রাত কাটাতে হলো গিরিখাতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান ও তার মিত্রদের সমন্বিত বড় হামলার ছক হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র নিয়ে আবুল মনসুর আহমদের চিন্তাধারা আজও সমান প্রাসঙ্গিক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রী নিহতের ঘটনায় বাসচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ইরান যুদ্ধের মোড় কি তবে বদলাতে চলেছে? উত্তরপ্রদেশে ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন, এলাকায় উত্তেজনা নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার বৃদ্ধা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার বৃদ্ধা

প্রতিবেদকের নাম

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় বাড়ি ভেসে যাওয়ার পর দীর্ঘ ১১ দিন নিখোঁজ ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা শ্রেষ্ঠা। টানা আট দিন হন্যে হয়ে খুঁজেও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার ধরে নিয়েছিল যে তিনি আর বেঁচে নেই। এমনকি কুশ ঘাস দিয়ে প্রতীকী মরদেহ তৈরি করে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু করেছিলেন স্বজনরা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ১১তম দিনে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে চন্দিকাকে।

ঘটনার সময় চন্দিকা নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভা-১০-এর নিজ বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে ছিলেন। ভোতেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে তাদের সাড়ে চারতলা বাড়িটি উপড়ে ভেসে যায়। চন্দিকার সম্বন্ধী রমেশ মান শ্রেষ্ঠা জানান, বাড়িটি ভেসে গিয়ে ত্রিশূলী নদীর তীরে কোথাও আটকে গিয়েছিল। উদ্ধারের পর জানা যায়, নুয়াকোটের বেত্রাবতী বাজারে একটি বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পরিদর্শক সুমন বিকের নেতৃত্বে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।

রমেশ মান শ্রেষ্ঠা আরও জানান, বন্যার পর আট দিন ধরে তারা চন্দিকাকে খুঁজেছেন। চন্দিকার জামাইও বেত্রাবতী ও ত্রিশূলী নদীর তীর ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন। কিন্তু ওই এলাকায় প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। গভীর কাদা, জলাবদ্ধতা এবং আশপাশে মরদেহ পচনের তীব্র দুর্গন্ধের কারণে উদ্ধারকারীরাও অনেক জায়গায় পৌঁছাতে পারেননি। অনুসন্ধান ব্যর্থ হওয়ার পর পরিবার শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নেয়। রমেশ বলেন, ‘আমরা কুশের মরদেহ তৈরি করে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

উদ্ধারের পর হেলিকপ্টারে করে চন্দিকাকে ত্রিশূলীর নেপাল আর্মির মাইবাল ব্যারাকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কাঠমান্ডুর ছাউনির আর্মি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা পরিবারকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এ কারণে রমেশ এখনো সরাসরি চন্দিকার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, হাসপাতালের বাইরে থেকে দূর থেকেই তাকে দেখার চেষ্টা করছেন।

চন্দিকার নাতিও হাসপাতালে রয়েছে। রমেশ জানান, নানিকে দেখে ছেলেটি অনবরত কাঁদছে এবং ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও করছে না। পরিবারের আট দিনের চরম হতাশা, শেষকৃত্যের প্রস্তুতি এবং এরপর হঠাৎ চন্দিকার জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় রমেশ গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। তার ভাষায়, ‘মনে হচ্ছে, সত্যিই এই পৃথিবীতে ঈশ্বর আছেন।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ