বৃহস্পতিবার ঢাকায় ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রটিকে জনগণের কাছে আস্থার প্রতীকে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে সারা দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে। এত বিশাল সংখ্যক মামলার চাপ বিচারকদের ওপর অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, যা নিরসনে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় ই-পারিবারিক আপিল আদালত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে ৪৬ লাখের ওপরে মামলা পেন্ডিং রয়েছে। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ন্যায়বিচারের জায়গাটাকে যদি সত্যিকার অর্থে মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গায় পরিণত করতে হয়, তাহলে আমাদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এআইকে মোকাবিলা করতে হলে, ডিজিটাল সেক্টরে আমাদের আরও বেশি পারদর্শী হতে হবে।
বিচারকাজে গাফিলতি ও কর্মঘণ্টা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এমন অভিযোগ রয়েছে যে, কেউ কেউ বেলা ১১টায় আদালতে উপস্থিত হয়ে মাত্র দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যেই দাপ্তরিক কাজ শেষ করে চলে যাচ্ছেন। এ ধরনের আয়েশি কর্মপদ্ধতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
বিচার ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার গুরুত্বারোপ করে আসাদুজ্জামান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ বিচারকদের দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। এরই মধ্যে প্রবর্তিত ই-বেইল বন্ড সিস্টেম জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও হাজিরা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ডিজিটাল সেক্টর। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ই-বেইল বন্ড চালু করেছি এবং এটার সুফল জনগণ পাওয়া শুরু করেছে।
প্রযুক্তির ব্যবহারের উদাহরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইতিমধ্যে ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আসামিরা কারাগারে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আদালত ডিজিটাল হাজিরা কনফার্ম করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিচার ব্যবস্থা দ্রুত বিচার প্রাপ্তিতে জনগণকে নতুন গতি দেবে।