শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন দীপ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ উইকেটের মাইলফলকে রশিদ খান ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে জামায়াতের বিক্ষোভের ডাক জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাবনায় সশস্ত্র হামলায় দুই রাজনৈতিক নেতা নিহত বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মোটরসাইকেল উদ্ধার করল পিবিআই হুতিদের: সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ৬ হামলার ত্রুটি সারিয়ে পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে কঠোর নীতিমালা রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রতিবেদকের নাম

জাপানে চার দিনের সরকারি সফল সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র উন্মোচন এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই সফরে গিয়েছিলেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে তারেক রহমান এই সফরে অংশ নেন। সফরের প্রধান অর্জনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দুই দেশের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল স্বাক্ষর। এর পাশাপাশি ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের দুটি ইয়েন-লোন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের অনুদান সহায়তার চুক্তি হয়েছে। চুক্তিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত অনুদান সহায়তার চুক্তিও রয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে জাপানি একটি প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতার বিষয়েও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুই দেশ একটি আগ্রহপত্র বা লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী টোকিওতে জেট্রোর সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ অংশ নেন। সেখানে তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অটোমোবাইল, জ্বালানি, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, উচ্চগতির রেল, লজিস্টিকস এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এছাড়া ইউনিক্লো, মিতসুই অ্যান্ড কোং, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার মতো বড় বড় জাপানি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর টোকিওতে জেট্রোর সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগে’ বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সংস্কারেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সফরসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা, জেবিআইসি গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এর বাইরে তিনি ২৭ অক্টোবর ফুত্তসুতে অবস্থিত জেরার এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইচিকাওয়াতে অবস্থিত নিতসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার নাগোয়ায় টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোতোমাচি কারখানা ও শিল্প জাদুঘর পরিদর্শন করেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, সরকারি চুক্তির বাইরে জেট্রোর মাধ্যমে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সফর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে, যা দুই দেশের প্রথম ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ)-এর প্রেক্ষাপট তৈরি করবে। উল্লেখ্য, ঢাকা মেট্রোরেল, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা প্রকল্পে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ