সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও কৌশলগত তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ছয়টি বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তার ভাষ্যমতে, সৌদি আরবের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু করে রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণের নাজরান অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এসব স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে আঘাত করা হয়েছে।
হুতি মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাবিগ তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাস তানুরা তেল শোধনাগার, আরামকোর একটি স্থাপনা এবং নাজরানে সৌদি সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরেও হামলার কথা জানানো হয়েছে। তবে হুতিদের এই দাবির সত্যতা নিরপেক্ষ কোনো উৎস থেকে এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এই হামলার দাবির আগেই সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এই তথ্য জানান। সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আকাশপথে ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো মাটিতে পড়ে রিয়াদের একটি বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন সৌদি নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। হামলার আশঙ্কায় রিয়াদ, আল-খারজ প্রদেশ এবং নাজরান শহরে আগেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। সংস্থাটির মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে জানান, ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একটি বাড়ি ও একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানে সৌদি আরব ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় দেশ সংলাপের মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের বিষয়ে ইতিবাচক ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। ওই আলোচনায় সৌদি প্রতিনিধি দলের পাশাপাশি তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক আলোচনার পর দুই দেশই শান্তি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠপর্যায়ে হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সৌদি-হুতি যুদ্ধে বাংলাদেশের শ্রমিক কেন আলোচনার কেন্দ্রে।