ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলার কাছে প্রায় ৪৫ লাখ ভোটে পরাজিত হয়েছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। এই পরাজয়ের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন এবং সেখান থেকে নিজেকে দেশটির প্রকৃত বৈধ নেতা হিসেবে দাবি করেছেন। নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তিনি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ও লুলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আঙুল তুলেছেন। তবে নিজের এই গুরুতর অভিযোগের সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি তিনি।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে পৌঁছান। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চিঠি প্রকাশ করেন, যেখানে নিজেকে ব্রাজিলের নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। শুরুতে তিনি নিজেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দাবি করে চিঠি লিখলেও, পরবর্তীতে তা সরিয়ে একটি সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তাকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা তিনি অমান্য করেছেন। একটি অর্থ পাচারের তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত তাকে এই নির্দেশ দিয়েছিল। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব আইনগত অভিযোগ তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
এদিকে ব্রাজিলের নির্বাচনী আদালত, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা লুলার বিজয়কে বৈধতা দিয়েছেন। দেশটির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ আইন ও সংবিধান মেনে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
ফ্লাভিওর ভাষ্যমতে, নির্বাচনের সময় ভোটার দমন করা হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যদিও আইন বিশ্লেষকদের স্পষ্ট অভিমত, নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের জন্য তিনি যে আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন, তাতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
তার এই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য কিছুটা কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা অভিযোগ করেছেন যে, বলসোনারো পরিবারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুপরিকল্পিত ভূমিকা রয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। পছন্দের পুরুষকে পেতে ১০০ ফুট উঁচু টাওয়ারে উঠে গেলেন তরুণী, অতঃপর…।
উল্লেখ্য, একই সময়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ চলছে। যেমন ট্রাম্প ভেনিজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার ইঙ্গিত দিয়েছেন, থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে বিমান টিকিটের দাম ৩১ শতাংশ বেড়েছে এবং ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। এছাড়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের ধর্ষণ অভিযোগ, বিমান ছিনতাইয়ের হুমকির মুখে ফ্লাইটের ফিরে আসা এবং নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিকিটের দাম ৩১ শতাংশ বেশি, থ্যাংকসগিভিংয়ে কমছে বিমানযাত্রা। ইরানে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে যে শর্ত দিলেন ট্রাম্প।