ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। যদিও সকালের দিকে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল, তবে সময়ের সাথে সাথে ভোটারদের ভিড় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আসনটির মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩ জন। সকালে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য মোট ১৮৫টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভূল্লী উপজেলায় ৩৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যালট পেপার, বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় এ উপনির্বাচনে কয়েক গুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মোট ৫ হাজার ৩০০ জন সদস্যের সমন্বয়ে গড়া এই নিরাপত্তা বলয়ে রয়েছে ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ সদস্য, ২১ প্লাটুন বিজিবি ও ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য। এছাড়া মাঠে সক্রিয় রয়েছে ৯০টি মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স। শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বে আছেন তিনজন বিচারিক ও ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৫ হাজার ৩০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ২৫ জন, ৪ জন বিদেশি এবং ১৭৭ জন দেশি পর্যবেক্ষক মাঠে কাজ করছেন।
এই উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলিম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা)।