ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে আরব অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে ভোটারদের প্রভাবিত করতে কাতার ও তুরস্কসহ কোনো বিদেশি শক্তি অবৈধ অর্থ লেনদেন করেছে কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গের সরাসরি নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ সংস্থাটির প্রধান ডেভিড জিনিকে গোয়েন্দা সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করে সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার নির্দেশ দেন।
এক নির্দেশনায় সোলবার্গ উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন পক্ষ বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছে বলে বেশ কিছু গুরুতর তথ্য তার কাছে এসেছে। তাই এসব সন্দেহের পক্ষে-বিপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের আহ্বান জানান তিনি। আমরা বুঝতে পারছি, কোথাও কিছু একটা সমস্যা আছে।
নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যানের এই নির্দেশের আওতায় বিতর্কিত আর্থিক লেনদেনের পথগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। শিন বেতের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, অতীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকা কোনো নেটওয়ার্কের সাথে এসব অর্থায়নের যোগসূত্র রয়েছে কি না। তদন্তের অংশ হিসেবে আরব দলগুলোর একটি রাআম পার্টির পক্ষে রাখা নগদ অর্থ ও ভোটের স্লিপভর্তি খাম জব্দের ঘটনাও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন নিউজ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ভোটের আগেই নিরাপত্তা বাহিনী এ বিষয়ে সক্রিয় ছিল। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, গত দুই সপ্তাহে পাওয়া নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গোয়েন্দারা মাঠে নামেন এবং আগামী কয়েক দিনে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
নির্বাচনে আরব দলগুলো অভাবনীয় সাফল্য পেয়ে সরকার গঠনে নির্ধারণী ভূমিকা বা ‘কিংমেকার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পরই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি ব্যাপক ভোট জালিয়াতি, অর্থ লেনদেন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনে। তারা শিন বেত ও পুলিশের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি তদন্তের জোর দাবি জানায়। ভোটে অমীমাংসিত ফলাফল: ইসরায়েলের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে নেতানিয়াহু।
শুরুতে টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পুলিশের পক্ষ থেকে লিকুদ পার্টির কারচুপির দাবি খারিজ করে বলা হয় যে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে পরে ইসরায়েল পুলিশ কমিশনার ড্যানিয়েল লেভি স্পষ্ট জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠুতা বজায় রাখতে পুলিশ যেকোনো অপরাধমূলক সন্দেহ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে। নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না।’।
রাজনীতিতে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিরোধী জোটের নেতা ও ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকট সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের কথা জানিয়ে বলেন, সব অভিযোগের সঠিক তদন্ত অবশ্যই হতে হবে, তবে আগামী ২৬তম নেসেটের শপথ গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ঝুলিয়ে দিতে বা প্রভাবিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর এই সুযোগ নেওয়া উচিত হবে না। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে হাত মেলানোর ইঙ্গিত দিল আরব জোট।
অন্যদিকে ইসরায়েলের উগ্রপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বিষয়টিকে আরও কঠোরভাবে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তিনি কাতারের অর্থায়নে জড়িত থাকার সন্দেহে আরব দলগুলোর নেতাদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন এবং এই ঘটনার পেছনে মুসলিম ব্রাদারহুড ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শিন বেতকে আহ্বান জানান।