ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছিল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, আরব রাজনৈতিক দলগুলো সুসংগঠিত ঘুষ লেনদেন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা ও নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত করেছে। শিন বেতসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে এসব দাবির পক্ষে শত শত প্রমাণ ও সাক্ষ্য জমা দেওয়ার কথাও বলেছিল লিকুদ।
তবে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে ইসরায়েল হায়োমের বরাতে জানানো হয়েছে, সরকারি তদন্তে এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। দেশটির পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আরব-ইসরায়েলি ভোটারদের নিয়ে তোলা জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে কোনো আইনগত বা বাস্তবসম্মত প্রমাণ নেই। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কোনো উপাদান তাদের কাছে নেই বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটেছে এবং তারা সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট ৫৩টি এবং বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের ম্যাজিক ফিগার কোনো পক্ষই অর্জন করতে না পারায় দেশটিতে এক ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই লিকুদ পার্টি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তদন্তে ধোপে টেকেনি।