রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গোদাগাড়ীতে পরিত্যক্ত বিএমডিএর গভীর গর্তে পড়ে মহিষের মৃত্যু, ক্ষতিপূরণের দাবি জনপরিসর নিয়ে শিল্প ও স্থাপত্য প্রদর্শনী’র উদ্বোধন করল ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ ডিবিএইচ-এর শরীয়াহ সুপারভাইজরী কমিটির ১০ম সভা অনুষ্ঠিত গোদাগাড়ীতে বাস-ভুটভুটি সংঘর্ষে চালক নিহত, বাসের চালক গুরুতর আহত বোদায় ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত-১ ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন: আত্রাইয়ে ২৫ হাজার শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল নাটোরে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার ফ্যাসিবাদের দোসর সৌমেন সাহা বিএনপিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ছাতকে গোবিন্দগঞ্জ অটোরিকশা-টেম্পু ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত

ফ্যাসিবাদের দোসর সৌমেন সাহা বিএনপিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

রফিকুল ইসলাম ঃ

আওয়ামী লীগের চিহ্নিত দোসর এখন টাকার বিনিময়ে বিএনপিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দলীয়ভাবে কঠোর অবস্থান নিলেও মোটা টাকার বিনিময়ে সুযোগসন্ধানী কিছু আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি এমনটাই ঘটতে চলেছে যশোর জেলায়।

ফ্যাসিস্টের অন্যতম দোসর ডায়মন্ড হাউসের স্বত্বাধিকারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সৌমেন সাহা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার এতটাই উঁচু পাহাড়ে ছিলেন যে তার বিরুদ্ধে সরকারি বেসরকারি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, স্বর্ণ ও ডায়মন্ড চোরাকারবারি, অর্থ পাচার, ব্যবসায়ীক সকল সুযোগ সুবিদাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবুর ঘনিষ্ঠতার সুবাদে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন সৌমেন সাহা। রাজনৈতিক সখ্যতার মাধ্যমে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ভূমি দখলসহ বাগিয়ে নেন একাধিক ব্যবসায়ীক সুযোগ সুবিদা। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘ বছর নানা অনিয়মে জড়িয়েছেন তিনি।

২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নেতাকর্মীরা পলাতক থাকলেও রহস্যজনক কারণে চলমান রয়েছে সৌমেন সাহার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয় উত্তরার পশ্চিম থানায় ছাত্রজনতা হত্যা মামলাসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার নামে একাধিক প্রতারণা মামলা রয়েছে। ফলে, যশোর জেলার বিভিন্ন সংগঠনের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৫ বছর দুর্নীতি ও বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক বুনেছেন সৌমেন সাহা। দেশের বিভিন্ন স্থানে (ডায়মন্ড হাউস) নামে রয়েছে ৮টি ডায়মন্ড জুয়েলারি শো-রুম। স্বর্ণ ও ডায়মন্ড আমদানির ক্ষেত্রে অনিয়ম, অর্থ পাচার এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে ডায়মন্ড ব্যবসা ও শো-রুম রয়েছে। রাজধানী ঢাকার তৎকালীন একটি থানার ওসি অপারেশন, বর্তমানে সিআইডিতে চাকুরিরত সৌমেন সাহার বন্ধু হওয়ার সুবাদে সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ড তিনি পরিচালনা করেন। কথিত রয়েছে, আইনগতভাবে সকল জটিলতা নিরসন করার বিনিময়ে সিআইডির ওই কর্মকর্তা কালো টাকা সাদা করতে সৌমেন সাহার ডায়মন্ড হাউজে ইনভেস্ট করে তিনিও ব্যবসায়ীক পার্টনার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৌমেন সাহার এক ঘনিষ্টজন বলেন, ‘‘রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও অনৈতিক কাজের সহযোগীদের খুশি রাখতে ধানমন্ডি শুক্রাবাদ এবং মালিবাগ গিফারী কলেজের ঐদিকে দুটি পৃথক জলসাখানা রয়েছে। যেখানে মাদক সেবন, সুন্দরী তরুণী ও চিত্রজগতের মডেলদের নিয়ে প্রতিনিয়তই মনোরঞ্জন করানো হয়।’’

স্থানীয়রা বলেন, ‘‘তুলনামূলকভাবে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই সৌমেন সাহা কি ভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন? দৃশ্যমান বৈধ আয়ের পরিমাণ মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেখানে তিনি কীভাবে এত এবং দেশে-বিদেশে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেন?

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে ডায়মন্ড হাউসের স্বত্বাধিকারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সৌমেন সাহা বলেন, ‘‘ব্যবসায়ীদের কোন দল নেই। যখন যে দল ক্ষমতায় তখন সেই দলেই আমরা। আগে আওয়ামী লীগ করতাম এখন বিএনপি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ