ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে আজ শুক্রবার (১২ জুন) জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। খবর রয়টার্সের।
বাংলাদেশের স্থানীয় সময় হবে সকাল ৬ টা ৪২ মিনিট নাগাদ আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১.২১ ডলার বা ১.৩ শতাংশ কমে ৮৯.১৭ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১.২৩ ডলার বা ১.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮৬.৪৮ ডলারে ঠেকেছে। সাপ্তাহিক হিসেবে এই পতন আরও বড়; চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.২ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৪.৪ শতাংশ কমেছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘কঠোর আঘাত’ হানার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি সেই পূর্বনির্ধারিত বিমান হামলা বাতিল করে জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। অবশ্য ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’ জানিয়েছে, তেহরান এখনও কোনো চুক্তির খসড়া বা পাঠ্য অনুমোদন করেনি।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা আইজির মার্কেট অ্যানালিস্ট টনি সাইকামোর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, যদিও এটি আবারও কোনো ‘মিথ্যা আশ্বাস’ হতে পারে। তবে তেলের বাজারে এর প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত দ্রুত ও নিষ্পত্তিমূলক।
গত বুধবার (১১ জুন) ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিল, কোনো নৌযান এই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে সরাসরি হামলার শিকার হবে। বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিগত কয়েক মাস ধরে ইরানের এই অবরোধের কারণেই তেলের দাম চড়া ছিল। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত অব্যাহত রেখেছে।