ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বেইজিংয়ে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝাংয়ের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের পূর্বের সমঝোতার ভিত্তিতে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
দুই দিনের সফরে চীন অবস্থান করছেন অজিত দোভাল। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়া। ২০০৩ সালে ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই বিশেষ প্রতিনিধি ব্যবস্থা চালু করা হয়। প্রায় ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বিতর্কিত সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষ এবং পূর্ব লাদাখে সামরিক অচলাবস্থার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়, যা নিরসনে এই কূটনৈতিক আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দোভালের বেইজিং সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই ব্যবস্থা এখনো সীমান্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান দিতে পারেনি, তবুও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এটি একটি কার্যকর কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সোমবার বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত ইস্যুর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই আলোচনা সীমান্ত প্রশ্নে দুই দেশের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। গত বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত ২৪তম দফার আলোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, সে সময় উভয় পক্ষ বেশ কিছু বিষয়ে অভিন্ন বোঝাপড়ায় পৌঁছেছিল।
এবারের আলোচনায় সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য থাকলেও, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দোভাল ও ওয়াং ইর মধ্যে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে যোগাযোগের জন্য এটি একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম’।