ফেশিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিসের ফলে মুখের একপাশ আংশিক বা সম্পূর্ণ অবশ হয়ে যাওয়ার অবস্থাকে ফেশিয়াল পালসি বলা হয়। জন বেল প্রথম এই রোগটি চিহ্নিত করেছিলেন বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি ‘বেল’স পালসি’ নামেও পরিচিত। কানের অস্ত্রোপচারের পরবর্তী জটিলতা বা স্নায়ুতে আঘাতের কারণে এমন সমস্যা হতে পারে।
আক্রান্ত ব্যক্তির মুখমণ্ডলের নির্দিষ্ট দিকের চোখ বন্ধ করতে সমস্যা হয় এবং অনবরত পানি পড়তে থাকে। এছাড়া কুলি করার সময় পানি মুখ থেকে অন্য দিকে গড়িয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ জানান, রোগের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসার ধরন নির্ধারিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে স্টেরয়েড সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ হিসেবে বিবেচিত। ভাইরাস সংক্রমণের সন্দেহ থাকলে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মুখের পেশি সচল রাখতে ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত জরুরি।
কিছু ক্ষেত্রে স্নায়ু সংকুচিত হওয়ার কারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। তবে বেল’স পালসিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং এই রোগ পুনরায় হওয়ার আশঙ্কা খুবই সামান্য বলে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।