রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে ঘিরে মব পরিস্থিতি সৃষ্টি ও জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী ও সেকশন অফিসার (অর্থ) মো. নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময়কার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে আব্দুস সালাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানা বিএনপির স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত বাকিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আগে থেকে লিখে আনা পদত্যাগপত্রে তাদের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একটি দল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল। এসময় তারা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। উপাচার্য বলেন, তাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে এবং রাজশাহীর বদলে ঢাকার ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে চেয়ার থেকে উঠে আসতে বাধ্য করা হয়। হামলাকারীরা আগেই পদত্যাগপত্র টাইপ করে নিয়ে এসেছিল এবং সেখানে স্বাক্ষর করতে তাকে চাপ দেয়। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, স্বাক্ষর না দিলে আরও খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কা ছিল। বাধ্য হয়ে তিনি সই করলে তাকে দপ্তর থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘মিটিং চলাকালে বাইরে হট্টগোলের শব্দ শুনতে পাই। পরে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিয়নদের ধাক্কা দিয়ে আমার দপ্তরে প্রবেশ করে। আপনি রাজশাহীর মানুষকে কাজ দেন না, ঢাকার মানুষদের কাজ দেন।
হামলাকারীরা শুধু পদত্যাগপত্রেই সই নেয়নি, বরং উপাচার্যের কক্ষ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্রপাতিও খুলে নিয়ে যায়। সেই সাথে ক্যাম্পাসের ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে স্বাক্ষর নেওয়া শেষ হলে উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই ওইদিন বিকেলে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেস্ট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্য পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন। মামলার বাদী নাজমুল হোসাইন জানিয়েছেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা সবাই আতঙ্কিত। পুলিশের পক্ষ থেকে একজনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।