পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে যৌক্তিক দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রমিক আন্দোলন বর্তমানে বড় আকার ধারণ করেছে। যদি এই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট কোনো গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করে থাকে, তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। মঙ্গলবার বিকেলে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দলীয় কর্মী সভা ও সুধী সমাবেশে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরেই পোশাক খাতে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের সম্ভাবনা স্পষ্ট ছিল। সরকারের উচিত ছিল শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আগেই মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা। ন্যায্য আন্দোলনকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোনো গোষ্ঠী এতে অনুপ্রবেশ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, তবে তা সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার চরম ব্যর্থতা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরোধী দলের ওপর নজরদারি করতে ব্যস্ত থাকলেও দেশের শত্রুদের কর্মকাণ্ড তাদের অগোচরেই থেকে যাচ্ছে।’
সরকারের সমালোচনা করে এনসিপি নেতা অভিযোগ করেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিএনপির আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। বিএনপি তাদের জায়গা করে দিচ্ছে বলেই আওয়ামী লীগ সুযোগ নেওয়ার সাহস পাচ্ছে, যার দায়ও বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে। গত আট মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বা আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারের যথাযথ দক্ষতার অভাব রয়েছে, যার কারণে মানুষের আস্থা কমেছে।
রাজনৈতিক কৌশলের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম জানান, ১১-দলীয় জোট সংসদীয় পর্যায়ে থাকলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি একক ও স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দলকে সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়া ডিসেম্বর মাস নিয়ে আওয়ামী লীগের অপপ্রচার রাজপথে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মতো ডিসেম্বর মাস সব সময় জনগণেরই থাকবে। সরকারে ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে এলেও সরকার তা নবায়ন কিংবা নতুন চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো ভারতকে করিডোর দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে বর্তমান সরকার। এ সময় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তির আহ্বায়ক মাহিন সরকারসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।