জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডের খেলায় নাটকীয়তার সাক্ষী হলো চট্টগ্রাম ও সিলেটের ম্যাচ। জয়ের জন্য শেষ দিনে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ১০১ রান, হাতে ছিল ৯ উইকেট। আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও সিলেটের স্পিনার নাসুম আহমেদ ও শাহানুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচটি রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যায়। একটি আক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেন ম্যাক্সওয়েল। সরফরাজের টানা চার বাউন্সার, আম্পায়ার নিশ্চুপ, প্রতিবাদে ম্যাচ ছেড়ে দিলেন ভারত অধিনায়ক।
চট্টগ্রাম এক পর্যায়ে ৩ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে জয়ের পথেই ছিল। তবে পরবর্তী ১৩ ওভারের মধ্যে মাত্র ২৩ রান যোগ করতেই তারা ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে। সিলেটের নাসুম ৭৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট এবং শাহানুর একই রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করে চট্টগ্রামের শিবিরে কাঁপন ধরান। চট্টগ্রামকে প্রায় জিততে জিততে হারিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা।
এমন বিপর্যয়ের মধ্যেও ওপেনার সাদিকুর রহমান এক প্রান্ত আগলে রেখে মৌসুমে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন।
দল যখন জয় থেকে ১৭ রান দূরে, তখন তিনি ১০০ রান করে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন।
শেষ পর্যন্ত আশরাফুল হাসান রোহান ও সানজিদ মজুমদার সিলেটের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে দলের ১ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন। রোহান অফ স্পিনার শাহানুরের বল মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে চার মারলে চট্টগ্রামের ড্রেসিংরুম উল্লাসে ফেটে পড়ে। এটি তাদের এবারের লিগে দ্বিতীয় জয় এবং ২১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে উঠে এসেছে দলটি। রোমাঞ্চ শেষে চট্টগ্রামের ১ উইকেটের জয়। ২১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম। তবে দুই দলের দুজন ব্যাটসম্যানের জন্য দিনটি হয়ে থাকল আক্ষেপের।
ময়মনসিংহের বিপক্ষে খুলনা অবশ্য অনেকটা নির্বিঘ্নেই জয় পেয়েছে। ফলো-অনে থাকা ময়মনসিংহ শেষ দিনে ৯ উইকেটে ৩১৫ রান নিয়ে খেলতে নেমে আর মাত্র ৪ রান যোগ করে অলআউট হয়ে যায়। ফলে খুলনার সামনে ১৪০ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। এনামুল হক বিজয়ের অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে খুলনা ৮ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয়। পাঁচ ম্যাচে তিন জয়ে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে দলটি এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর চলতি লিগে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে রাজশাহীর বিপক্ষে। বগুড়ায় রংপুরের ওপেনার মিম মোসাদ্দেক দ্বিতীয় ইনিংসে ৬১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে টানা পাঁচ ম্যাচে ফিফটি করার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। শেষ দিনে রাজশাহী ১৮৪ রানে গুটিয়ে গেলে রংপুরের সামনে ১৬০ রানের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়। মিমের ব্যাটিং নৈপুণ্যে রংপুর ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে। রংপুরের ওপেনার মিম মোসাদ্দেকের ব্যাটে ধারাবাহিকতার গল্পটা শুরু হয়েছিল সেখান থেকেই। প্রতি ম্যাচের প্রথম ইনিংসে পঞ্চাশ ছোঁয়া মিম রাজশাহীর বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ১০ রান। বগুড়ায় আজ ৬১ রান করে টানা পাঁচ ম্যাচেই অন্তত একটি ফিফটি করার কীর্তি ধরে রেখেছেন মিম। শেষ দিন ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে খেলতে নেমে রাজশাহী ৭৪ রানের মধ্যে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় ১৮৪ রানে।
রাজশাহীতে ঢাকা ও বরিশালের ম্যাচটি ড্র হয়েছে। ৮ উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা বরিশাল শেষ পর্যন্ত ৩১৫ রান সংগ্রহ করে। উইকেটকিপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ১৮ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে ১৪৩ বলে ৯৪ রান করে তিনি আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফেরেন।
ঢাকার ব্যাটসম্যান আশিকুর রহমানের আক্ষেপ ছিল আরও বড়। পঞ্চম সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে তিনি আউট হয়েছেন। বাংলাদেশের ২২তম ক্রিকেটার হিসেবে তিনি ৯৯ রানে আউট হওয়ার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন। আশিকুরের ৯৯ রানের সুবাদে ঢাকা ৫ উইকেটে ২৫১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে ম্যাচটি ড্র হয়।