শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গলাচিপায় দুরারোগ্য, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক ও শুকনো খাবার বিতরণ উলিপুরে ১৭তম হাজী সম্মিলন অনুষ্ঠিত সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালটি জেনারেলে রুপান্তরিত করার প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন হয়নি পীরগঞ্জে অগ্নিকান্ডে ৩ পরিবারের ৫ বসত ঘরসহ ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভস্মীভুত নাটোরে নলডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ পালন উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির মাছ মাগুরায় প্রবল বর্ষণে নিম্নাঞ্চলসহ রাস্তাঘাট প্লাবিত।। বিপাকে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৯৪ রোগী- মেঝে-বারান্দায় শয্যা সেবা দিতে ক্লান্ত চিকিৎসক-নার্সরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি সবার: প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপ ২০২৬ : শেষ ষোলোতে কার প্রতিপক্ষ কে, ম্যাচ কবে

৫০ শয্যার হাসপাতালে ৯৪ রোগী- মেঝে-বারান্দায় শয্যা সেবা দিতে ক্লান্ত চিকিৎসক-নার্সরা

প্রতিবেদকের নাম

৫০ শয্যার জনবল আর অবকাঠামো নিয়ে সামাল দিতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ রোগী। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে রাণীশংকৈল সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৯৪জন ইনডোর রোগী। ফলে তিল ধারণের ঠাঁই নেই ওয়ার্ডগুলোতে।

শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আর এই বিপুল সংখ্যক রোগীকে দিন-রাত সেবা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

শনিবার (৪ জুলাই) হাসপাতালটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় এক চরম বিপন্ন চিত্র। পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের কোনো শয্যাই খালি নেই। ওয়ার্ডের সীমানা পেরিয়ে বারান্দার মেঝেতেও সারিবদ্ধভাবে শুয়ে আছেন রোগীরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঋতু পরিবর্তনে গরমে ডায়রিয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ঠ ও মারামারি হয়ে আহত কারণ জনিত রোগের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর ভিড় কয়েক গুণ বেড়েছে।

৫০ শয্যার বিপরীতে ৯৪ জন রোগী ভর্তি থাকায় নার্স ও চিকিৎসকদের কাজের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। মেঝেতে আশ্রয় নেওয়া এক রোগীর অভিভাবক ডিগেন চন্দ্র রায় ক্ষোভ ও আক্ষেপ করে বলেন, শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে মেঝেতেই বিছানা পেতেছি। ডাক্তার-নার্সরা চেষ্টা করছেন, কিন্তু রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে তারা ডাকলে সময়মতো আসতে পারছেন না।

ডিউটিরত এক নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমাদের জনবল ৫০ শয্যার হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত। কিন্তু পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া ৪জন ডায়রিয়া ২৬জন অন্যান্য রোগী,মহিলা ওয়ার্ডে ডায়েরিয়া ১৬জন, নিউমোনিয়া ৩জন,গাইনী বিভাগে ১জন ও অন্যান্য রোগে৪৪ জনসহ মোট ৯৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এদের ওষুধ, স্যালাইন দেওয়া এবং সার্বিক যত্ন নেওয়া এই সীমিত জনবল দিয়ে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, কিন্তু দিন শেষে আমরাও ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। আজ শন

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: ফিরোজ আলম (আরএমও) পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “রোগী যত বেশিই হোক, সরকারি হাসপাতাল থেকে আমরা কাউকে ফিরিয়ে দিতে পারি না। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসকদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। শয্যা সংকটের পাশাপাশি ওষুধ ও অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্টেও টান পড়ছে।

আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং সেই অনুপাতে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ না দিলে চিকিৎসাসেবার মান ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ