রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত পূর্বঘোষিত পাচার ও দুর্নীতিবিরোধী গণসমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। সংগঠনটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম অভিযোগ করেছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী কায়দায় এই কর্মসূচি বাতিল করেছে। শনিবার পুরানা পল্টনে দলের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।
রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সংস্কার, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার করে প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের পুঁজি প্রদানের দাবিতে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ মিনারে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। আয়োজক হিসেবে ছিল অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। হাসনাত কাইয়ূম জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়ার পাশাপাশি ১০ দিন আগেই ডিএমপিকে নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই অনুমতি বাতিল করা হয়, যা বাক্স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা দাবি ও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত পুলিশের একক হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিচার করতে হবে, আর এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। অন্যথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। দ্বিতীয়ত, আগামী ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারপূর্বক প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের পুঁজি প্রদান–সংক্রান্ত বিশেষ আইন’-এর খসড়া জমা দেওয়া হবে। তৃতীয়ত, প্রশাসনের এই অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে দেশের সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. নজরুল হক, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক রাশিদা বেগম, বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা জয়দীপ ভট্টাচার্য্য, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নির্বাহী সদস্য ফরিদুল ইসলাম ফরিদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।
এদিকে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (অপারেশনস–২) মাহবুব হোসেন কাজল জানান, তিনটি সংগঠনের যৌথ আয়োজনের কথা জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ‘অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা থাকায় তাদের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ২০ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনার প্রতিবাদে এই জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এসে প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে গণসমাবেশ অনুমতি না দেওয়া সরকারের মধ্যে অন্তর্নিহিত পাচারকারী ও দুর্নীতিবাজদের পক্ষে স্বৈরাচারী মানসিকতা, রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক সংস্কারবিরোধী এবং। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতীয় স্বার্থে স্পিকারকে সেটি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।