শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

সাজেক থেকে ফেরার পথে আতঙ্কে পর্যটকরা

প্রতিবেদকের নাম

নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রথমবার পরিবার নিয়ে সাজেক ঘুরতে গিয়ে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন মোহাম্মদ নাঈম। সাজেক থেকে ফেরার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় থাকা অবস্থায় উজো বাজার এলাকায় তারা অবরোধকারীদের বাধার সম্মুখীন হন। বৃহস্পতিবার সাজেকে শুরু হওয়া অবরোধের প্রথম দিনে প্রায় দুই হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়ি ফিরিয়ে আনার সময় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নাঈম তার দুই শিশুসন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ ১৯ সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে সময় পার করেছেন। তিনি জানান, এমন পরিস্থিতি আগে জানা থাকলে তিনি এখানে আসতেন না। পুরো সময়টা কীভাবে কেটেছে, তা ভাবলে এখনো ভয় লাগে।’—কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ থেকে রাঙামাটির সাজেক ভ্রমণে আসা পর্যটক মোহাম্মদ নাঈম। আজ সকালে খাগড়াছড়ির একটি হোটেলে কথা হয় মোহাম্মদ নাঈমের সঙ্গে। জানান, নিজের দুই শিশুসন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ১৯ জন একসঙ্গে প্রথমবারের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়াতে এসেছেন। তাঁরা সাজেকে অবস্থানকালে অবরোধের কথা শুনতে পান। এর পর থেকে কীভাবে খাগড়াছড়ি শহরে ফিরবেন তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে জানলে জীবনেও এখানে আসতাম না।’। অবরোধের প্রথম দিনে গতকাল সাজেকে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ পর্যটককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়ি শহরে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন, ‘গাড়ি আটকে দেওয়ার পর আমরা গাড়ির ভেতর বসে ছিলাম। আমরা সেখানে অপেক্ষা করছিলাম আমাদের দলের আরেকটি গাড়ির জন্য। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, পরদিন সকাল আটটার মধ্যে রুম ছেড়ে দিতে হবে। ফেরার পথের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে রাশেদ বলেন, ‘সকাল আটটায় গাড়িতে উঠে বসে থাকি।

একই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে পর্যটক মাইন উদ্দিন বলেন, গাড়ি আটকে পড়ার পর হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

লোকজন দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করছিল এবং নারীরা কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। দেখি, মানুষ দৌড়ে এদিক-সেদিক পালিয়ে যাচ্ছে। কী ঘটতে যাচ্ছে, বুঝতে পারছিলাম না।’।

দীঘিনালায় পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তিনি কেবল দোয়া পড়ে পরিস্থিতি কাটিয়েছেন।

পর্যটক রাশেদ আহম্মেদ জানান, বুধবার বিকেলে কংলাক পাহাড় থেকে ফেরার সময় অবরোধের খবর শোনেন।

শুক্রবার ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার সকালেই কটেজ ছাড়তে বাধ্য হন তারা। উজো বাজারে তাদের গাড়ি প্রায় আধা ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং এ সময় গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয়, যা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মুখে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে পড়ে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বুধবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেন এবং পর্যটকদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা দেন। অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির অন্যতম হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস—সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে প্রত্যাহার করা। তবে জেএসএসের পক্ষ থেকে তাদের কোনো সশস্ত্র অস্তিত্ব থাকার দাবি নাকচ করা হয়েছে। কিন্তু সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আগেভাগেই সাজেক ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে হয় তাঁকে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পর্যটকবাহী বহরে গুলি চালিয়েছে। যদিও ইউপিডিএফ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনার পর পর্যটকরা খাগড়াছড়িতে ফিরে কিছুটা স্বস্তি পেলেও সেই আতঙ্ক এখনো তাদের তাড়া করে ফিরছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটি আগামী শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধা বেলা অবরোধ পালনের ডাক দিয়েছে। ‘সারা রাস্তা আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম, মনে হচ্ছে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। খবর শুনে তাড়াহুড়া করে কটেজে ফিরে আসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ