বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আলেমরা দশ দিকে বিভক্ত কেন, প্রশ্ন খালিদ হোসেনের সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখক অ্যান কারসন যুক্তরাষ্ট্রে ওপিটি কর্মসূচিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবার টিপসই নিয়ে বিয়ে জালিয়াতি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ: বেঙ্গালুরুতে প্রতিবাদে প্রকাশ-ধ্রুব গত ১৭ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করেছি: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে নিউমুরিং টার্মিনালের ১৫ বছরের দায়িত্ব শাহজাহানপুরে বাসায় ফখরুলকে মৃত্যুর ঘটনায়, আটক বোন ও ভগ্নিপতি উৎপাদনের পথে রূপপুর: বি-টু অনুমতির অপেক্ষায় প্রথম ইউনিট রাজধানীর গণপরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখক অ্যান কারসন

প্রতিবেদকের নাম

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন কানাডীয় কবি ও লেখক অ্যান কারসন। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডিশ একাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। কারসনের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করতে গিয়ে একাডেমি জানায়, সাহসী ও সৃজনশীল উপায়ে ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক সাহিত্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি নতুন এক ধারার জন্ম দিয়েছেন। এই পুরস্কারের অংশ হিসেবে তিনি পাবেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘সাহসী ও সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপ করে সমকালীন সাহিত্যের নতুন রূপ সৃষ্টি করার জন্য’ কারসনকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

কারসনের লেখনিশৈলীতে কবিতা, প্রবন্ধ, গদ্য ও অনুবাদের এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। ধ্রুপদি গ্রিক সাহিত্যের গভীর প্রভাব তার সৃষ্টিতে স্পষ্ট, যা তাকে প্রচলিত সাহিত্যের গণ্ডি থেকে আলাদা করে এক স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে। তার কাজের পরিধি সাহিত্য সমালোচনা থেকে শুরু করে অপেরার গীতিনাট্য ও কবিতার উপন্যাস পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোগ্রাফি অব রেড’ তার অন্যতম প্রধান সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

তার সৃজনশীলতার একটি বড় উদাহরণ পাওয়া যায় ২০১৯ সালের পরিবেশনামূলক রচনা ‘নরমা জিন বেকার অব ট্রয়’-এ। এই বিশেষ কাজে তিনি ইউরিপিদিসের ‘হেলেন’ নাটকের মূল চরিত্রের সঙ্গে হলিউডের আইকনিক অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর জীবনকাহিনিকে এক সুতোয় গেঁথেছেন। তার এই বৈচিত্র্যময় কাজের সুবাদেই তিনি এখন আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিন, অ্যালিস মুনরো ও আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মতো বিশ্ববরেণ্য সাহিত্যিকদের কাতারে নিজের নাম লেখালেন।

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান নিয়ে বরাবরের মতো এবারও বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিগত ১২০ বছরে লিও তলস্তয়, ভার্জিনিয়া উলফ ও হোর্হে লুইস বোর্হেসের মতো কিংবদন্তি লেখকদের উপেক্ষা করায় সুইডিশ একাডেমির কঠোর সমালোচনা করে আসছেন অনেকে। এছাড়া মার্কিন লেখকদের ধারাবাহিকভাবে এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও একাডেমির বিরুদ্ধে রয়েছে। যদিও এর আগে ২০১৬ সালে মার্কিন সংগীতশিল্পী ও গীতিকার বব ডিলানকে এই পুরস্কার প্রদান করে একাডেমি সেই ধারা কিছুটা ভেঙেছিল।

অন্যদিকে, একাডেমির সমর্থকরা মনে করেন, মূলধারার বাইরে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত সাহিত্যিক বা ধারাকে বৈশ্বিক স্বীকৃতি দেওয়া তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এর উদাহরণ হিসেবে তারা ১৯৮২ সালে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং ২০০৭ সালে ডরিস লেসিংকে পুরস্কার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ডিনামাইট উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকেই সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শান্তিতে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত বছর হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই নোবেল পেয়েছিলেন, যাকে মার্কিন সমালোচক সুসান সন্টাগ ‘অ্যাপোক্যালিপসের মাস্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ