পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশি ইউনিয়নে নির্মিতব্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) যাবতীয় পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ‘বি-টু’ বা ক্রিটিক্যালিটিতে যাওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) এই অনুমতি দিলে প্রথমবারের মতো চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণু বিভাজন প্রক্রিয়ার সূচনা হবে।
প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন জানান, বায়রা’র কাছে প্রয়োজনীয় সব তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে। এখন কেবল অনুমতির অপেক্ষার পালা। এই ধাপে চুল্লিতে নিরাপদে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আইএইএ’র গাইডলাইন অনুসরণ করে রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের স্টেজ বি-ওয়ান এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সবশেষ ভালভ পরীক্ষার মতো জটিল ধাপগুলো অতিক্রম করায় পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। পারমিশন পেলেই আমরা পরবর্তী স্টেজে যাব, যেটাকে বি টু বলে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আটটি লাইন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ৩ শতাংশ শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে তা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরুর পর প্রায় ৭-৮ মাস পর্যন্ত পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলতে পারে। এটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হবে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবনের ভোগান্তি কাটাতে সবার নজর এখন নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দিকে। এ ধাপে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এখানে ধাপে ধাপে সফলভাবে এগিয়ে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত এলে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শুরু আজ।
প্রকল্পটির ব্যয় ও মেয়াদ নিয়েও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত মেয়াদ দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদের পরিবর্তন হলেও মূল কাজের খরচে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। যদিও ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখন মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে। একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রিডে বিদ্যুৎ আসার পর দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পাওয়া যাবে। দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন হচ্ছে কাল।