বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন

জ্বালানি সংকটে বন্ধ ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র, তীব্র হচ্ছে লোডশেডিং

প্রতিবেদকের নাম

তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে দেশের ৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এই ঘাটতির প্রভাবে সারাদেশে দিনে ও রাতে মিলিয়ে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে জ্বালানি সংকট এবং প্রয়োজনীয় সরবরাহের অভাব। তরল জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাইলে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সঙ্গতি প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে তেলচালিত ফার্নেস অয়েল বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ২৫ টাকা খরচ হচ্ছে। অন্যদিকে, কয়লাচালিত কেন্দ্রে এই খরচ ১৩ থেকে ১৪ টাকা এবং গ্যাসচালিত কেন্দ্রে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ে প্রায় ৭ টাকা। যদিও গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সবচেয়ে সাশ্রয়ী, কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশে বর্তমানে দৈনিক দেশীয় উৎস থেকে ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায় এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি। গ্যাসের এই সরবরাহ রাতারাতি বাড়ানো কঠিন, কারণ দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া যায়নি এবং পর্যাপ্ত আমদানি অবকাঠামোও গড়ে ওঠেনি। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘এখন তেলচালিত কেন্দ্রে (ফার্নেস অয়েল) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পড়ছে ২৫ টাকার কাছাকাছি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাসের চাহিদা ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও, ৭ অক্টোবর সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৮৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট। শিল্প খাতের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস বাড়াতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। গ্যাস সংকটে ঘোড়াশালের চারটি ইউনিটসহ (১,১৫৩ মেগাওয়াট), ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট, বাঘাবাড়ী ৭১ মেগাওয়াট ও সিরাজগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াটসহ মোট ১,৩৯৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। এতে করে রফতানি বাধার মুখে পড়তে পারে। এই তিন কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৩১৩ মেগাওয়াট। তিন কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৮৩০ মেগাওয়াট।

তরল জ্বালানির অভাবে গোপালগঞ্জ (১০০ মেগাওয়াট), চৌমুহনী (১১৩ মেগাওয়াট) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ (১০০ মেগাওয়াট) কেন্দ্র থেকে কোনো বিদ্যুৎ আসছে না। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সিদ্ধিরগঞ্জ ২১০ মেগাওয়াট, টঙ্গী ৮০ মেগাওয়াট, আশুগঞ্জ ইস্ট ৪০০ মেগাওয়াট এবং বড়পুকুরিয়ার ২৫০ ও ২৭৪ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটসহ মোট ১,৩৩৯ মেগাওয়াট সক্ষমতার ছয়টি কেন্দ্র বন্ধ আছে। পাশাপাশি বড়পুকুরিয়ার কয়লাচালিত সব ইউনিটও বর্তমানে অকার্যকর।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়াট, মেঘনাঘাট ৪৫০ মেগাওয়াট ও ভেড়ামারা ২০ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে পিডিবি বিদ্যুৎ নিচ্ছে না। এর বাইরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শাহজীবাজারের ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া হরিপুর ৩২ মেগাওয়াট, চট্টগ্রাম ৪২০ মেগাওয়াট, সিকলবাহা পিকিং ১৫০ মেগাওয়াট, সিলেট ২০ মেগাওয়াট এবং সৈয়দপুর ১৫০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রগুলোও বর্তমানে উৎপাদনে নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ