এল নিনোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও চরম ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বুধবার (৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এই প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, সংস্থাটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বড় ধরনের বাহ্যিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হওয়া দুর্বল দেশগুলোকে সুরক্ষা প্রদান করা।
সিঙ্গাপুরে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে আইএমএফ প্রধান এল নিনোর ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চলতি বছরের এল নিনোর প্রভাব অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তীব্র হতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরির বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে ইতিমধ্যে মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে খরা এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও ফসলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এর প্রভাব দেখা যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। অন্যদিকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের ধরন ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিকে জর্জিয়েভা ‘দ্বৈত বাহ্যিক ধাক্কা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট জলবায়ুগত সংকটের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে বহুগুণে জটিল করে তুলেছে। তিনি দেশগুলোর উদ্দেশে বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান সীমিত আর্থিক ও রাজস্ব সক্ষমতাকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। কিছু রাষ্ট্র পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে নিতে পারলেও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং লাওসের মতো স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোর জন্য অবস্থা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইএমএফ ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অনেক দেশকে টিকে থাকতে বাইরের অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন। তাই এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুসমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় ও খাদ্য সংকট কাটাতে আইএমএফ ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর পাশে দাঁড়াতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান জর্জিয়েভা। এল নিনো একটি প্রাকৃতিক বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি।