বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে দ্রুত বাড়ছে নুডলসের বাজার, বছরে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

প্রতিবেদকের নাম

কর্মব্যস্ত জীবনযাত্রা, পরিবর্তিত রুচি এবং চটজলদি রান্নার সুবিধায় বাংলাদেশে প্যাকেটজাত, কাপ ও প্রিমিয়াম নুডলসের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আজ নুডলস দিবস উপলক্ষে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্কুলের টিফিন বক্স থেকে শুরু করে অফিসের ব্যস্ততা—সবখানেই নুডলস এখন সহজ ও নিয়মিত খাদ্যের অংশ। দেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতের বিশাল এই বাজারের বর্তমান আকার প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে নুডলসের বাজারের আকার ছিল ১০২ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার। বছরে গড়ে ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে ২০২৬ সালে এই বাজার ১১০ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলারে এবং ২০৩১ সালে ১৫৭ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে এই বাজারের আকার ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মতো। স্বাভাবিক সময়ে ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হলেও করোনা অতিমারির সময় ঘরবন্দী মানুষের বাড়তি চাহিদার কারণে তা ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিক সময় বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে বাজার বড় হলেও করোনাকালে গৃহবন্দী মানুষের বাড়তি চাহিদায় প্রবৃদ্ধির হার ছাড়িয়েছিল ১৫ শতাংশের বেশি। খুব অল্প সময়ে ঝটপট তৈরি করা যায় এবং পেটও ভরে সহজে।

শহুরে জীবনযাত্রার দ্রুতগতিতে স্ন্যাকস ও ফাস্ট ফুডের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। দুই-পঞ্চমাংশেরও বেশি নগরবাসীর ব্যস্ততা এবং দ্বৈত আয়কারী পরিবারের সন্তানদের দ্রুত টিফিন তৈরির প্রয়োজন মেটাতে নুডলস জনপ্রিয় সমাধান হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার এবং অনলাইন ও খুচরা দোকানগুলোতে বাহারি স্বাদের নুডলসের সহজলভ্যতা এর বাজার বিস্তারে সহায়তা করছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই মুখরোচক খাবার এখন দেশের সব বয়সী মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম প্রয়োজনীয় অংশ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশের দুই-পঞ্চমাংশের বেশি মানুষ শহরে বসবাস করছেন। তাঁদের দ্রুতগতির ও ব্যস্ত জীবনযাত্রায় স্ন্যাকস এবং ফাস্ট ফুডজাতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে প্রতিদিন। পরিবারে মা–বাবা দুজনই চাকরিজীবী হওয়ায় সন্তানের টিফিন দ্রুত প্রস্তুত করা কিংবা অফিস শেষে ঘরে ফিরে ক্লান্ত শরীরে ঝটপট মুখরোচক কিছু বানানোর সবচেয়ে সহজ সমাধান হিসেবে নুডলসের প্রসার ঘটছে।

বাজারে এখনো নেস্‌লের ব্র্যান্ড ‘ম্যাগি’ এক-চতুর্থাংশ দখলে রেখেছে। তবে প্রাণের ‘মি. নুডলস’, মেঘনা গ্রুপের ‘ফ্রেশ’, কোকোলা, স্কয়ারের ‘চপস্টিক’ ও ইফাদের ‘এগি’র মতো ব্র্যান্ডগুলো তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। ২০২০ সালে সাধারণ ইনস্ট্যান্ট নুডলসের বিক্রি ছিল মোট বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশ। পরবর্তীতে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রাণ, স্কয়ার, ইফাদ ও ফ্রেশের মতো কোম্পানিগুলো নতুন ও বৈচিত্র্যময় ফ্লেভার বাজারে আনায় গ্রাহকের পছন্দের পরিসর বেড়েছে।

এমজিআইয়ের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) কাজী মো. মহিউদ্দিন বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের নুডলসের বাজার বেশ সম্ভাবনাময়। ভোক্তারা এখন শুধু দাম নয়, বরং পণ্যের স্বাদ, মান, নিরাপত্তা ও বৈচিত্র্যকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে মূল্যস্ফীতির কারণে কাঁচামাল, প্যাকেজিং ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করাই এখন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদেশের বাজারেও বাংলাদেশি নুডলসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে পাস্তা, ম্যাকারনি ও নুডলস রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৮ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার। প্রবাসী বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় ভোক্তাদের চাহিদা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ