বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন

মোহাম্মদপুরে কোটি টাকার ভেজাল ওষুধসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রতিবেদকের নাম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আব্দুল্লা আল-মামুন (৪২), মো. সাজু (৩৩) ও মো. সজীব (২৬)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান রোডের ব্লক-সি এলাকার একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে এ অভিযান চালানো হয়।

বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন মাস ধরে চক্রটি সেখানে ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সিরাপ, ক্যাপসুল, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, হাইজিন ওয়াশ, সাবান, পাউডার ও ট্যাবলেট রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯২টি কিড ওমেগা লিকুইড সিরাপ, ১০০ বক্স ল্যাক্টোফ্লেক্স ক্যাপসুল, ১৫০টি ডিটক্স প্লাস শ্যাম্পু, ৩০০ পাতা ওসেয়ার্ক-সিডি ক্যাপসুল, ৮০০টি কিডিকয়ার সিরাপ এবং বিপুল পরিমাণ শ্যাম্পু ও ফেসওয়াশ। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৯২টি KIDZ Omega Liquid 100ml সিরাপ, ১০০ বক্স LACTOFLEX Capsules, ৩০টি Facy GLOW Face Wash, ১৫০টি Detox Plus Shampoo, ৭০টি Pedia Vox Kid Syrup, ৩০০ পাতা Osearc-CD ক্যাপসুল, ৫ কেজি Oriva Hapes সাদা পাউডার, ৫০টি BIOKET Active। এ ছাড়া ১৫০টি INTA CLEAN HYGIENE WASH-এর খালি মোড়ক, মোড়কবিহীন ৮০ বোতল Hygiene Wash, ৩০০টি PERMIMITE Soap-এর খালি মোড়ক, ৮০টি Spiruva (Spirulina) লিফলেট, ১০০টি ফেসওয়াশের পলিথিন, ৩০০টি লেবেলবিহীন সিরাপের বোতল, ৪০০টি সাদা প্লাস্টিকের কৌটা, ১০০টি লেবেলবিহীন সাদা।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা অনেক ওষুধ দেশের বাজারে অনুমোদিত নয় এবং ধারণা করা হচ্ছে এগুলো প্রতিবেশী দেশ থেকে চোরাই পথে আনা হয়েছে। এছাড়া ওষুধ তৈরির জন্য তিনটি সিলিন্ডার, ক্যাপসুল ভরার দুটি মেশিন, ফুয়েল লাগানোর মেশিনসহ বিভিন্ন প্যাকেজিং সরঞ্জাম ও লেবেল উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটির কার্যক্রম এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত তিনটি সিলিন্ডার, একটি ফুয়েল লাগানোর মেশিন, দুটি ক্যাপসুল ভরার মেশিন, ১০ কেজি ফুয়েল (পলিথিন), ছয়টি ক্যাপসুল ভরার যন্ত্রাংশ এবং দুটি লেবেল লাগানোর সাঁচও জব্দ করা হয়েছে।

ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, এসব ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ সাধারণ মানুষের বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ‘কিডিকয়ার’সহ কয়েকটি সিরাপ ও ভিটামিন জাতীয় ওষুধ নকল করে তৈরি করা হচ্ছিল। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো নিবন্ধিত চিকিৎসকই সরকারি অনুমোদনহীন ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন না। তদন্তে যেসব চিকিৎসকের নাম পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জব্দ করা ওষুধগুলো বাজারের ঠিক কোন কোন ডিসপেনসারি বা বিক্রয়কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। এছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রটির নেটওয়ার্ক কতদূর বিস্তৃত এবং এই ব্যবসার পেছনে আর কারা জড়িত, তা বের করতে জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সাধারণ ক্রেতাদের উদ্দেশে ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেজাল ওষুধ শনাক্ত করা বেশ কঠিন। তবে ওষুধের মোড়ক এবং প্যাকেজিংয়ের গুণমান সতর্কতার সাথে যাচাই করলে নকল পণ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডিবি। প্রাথমিকভাবে ডিবি জানতে পেরেছে, অভিযানে পাওয়া কিছু ওষুধ দেশে প্রচলিত নয়। এর মধ্যে কিডোকেয়ার নামে একটি সিরাপকে নকল হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডিবির কর্মকর্তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ