বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন

ড্রোনের আলোয় বিদায়ী মেসিকে সম্মান জানালেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা

প্রতিবেদকের নাম

ফুটবল ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র লিওনেল মেসি জাতীয় দলের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয় দিয়ে আলবিসেলেস্তে ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই কিংবদন্তি। মাঠের খেলায় নিজের চেনা ছন্দে থাকা মেসি ম্যাচে দুটি গোল করিয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে এবং ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজেই একটি গোল করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ২০৮তম ম্যাচে গোল করে বিদায়টি স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান ১২৬ গোল ও ৭০ অ্যাসিস্টে গিয়ে থামল। অসংখ্য রেকর্ড, ব্যক্তিগত অর্জন ও দলীয় সাফল্যে নিজেকে কিংবদন্তির কাতারে নিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন এই তারকা। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের দীর্ঘ অপেক্ষারও অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। প্রিয় তারকাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে তারা অপেক্ষা করছিলেন বিশেষ মুহূর্তের জন্য।

বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই বিদায়ী ম্যাচের পর এক আবেগপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। রেফারি স্মারক হিসেবে মেসির হাতে বিশেষ বক্স তুলে দেওয়ার পর দর্শকেরা দীর্ঘক্ষণ গ্যালারিতে অপেক্ষা করেন। একপর্যায়ে রাতের আকাশে শুরু হয় এক চমৎকার ড্রোন শো। শত শত ড্রোনের নিখুঁত বিন্যাসে প্রথমে ফুটে ওঠে আর্জেন্টিনার পতাকা, যা স্টেডিয়ামজুড়ে দর্শকদের মধ্যে তীব্র উল্লাস ছড়িয়ে দেয়। তবে খেলা শেষ হলেও গ্যালারি ছাড়েননি দর্শকেরা।

আকাশে একে একে ভেসে ওঠে ‘মেসি, ১০’ লেখা এবং ২০২২ বিশ্বকাপে ট্রফি উঁচিয়ে ধরা মেসির অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তের ছবি। দর্শকদের চোখের সামনে ফিরে আসে সেই গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতির প্রহর। এরপর আকাশজুড়ে জ্বলজ্বল করে ওঠে ‘গ্রাসিয়াস, লিও’ ও ‘গ্রাসিয়াস আর্জেন্টিনা’র মতো বার্তা। সবশেষে ড্রোনের মাধ্যমে মেসির মুখের অবয়ব ফুটিয়ে তুললে পুরো স্টেডিয়াম করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম। তবে সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যটি আসে যখন ড্রোনগুলো মিলে আকাশে ফুটিয়ে তোলে ২০২২ বিশ্বকাপ হাতে মেসির ছবি।

মাঠের ভেতর সতীর্থরা একে একে ঘিরে ধরেন লিওনেল মেসিকে। বিদায়ের সুর আর আবেগে সিক্ত এই ফুটবলারের চোখে পানি দেখা যায়। উপস্থিত সতীর্থদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত মেসি দীর্ঘদিনের পথচলার সমাপ্তি টানলেন। বেনিনের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করার পথে নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে গোল করানোর মাধ্যমে নিজের শেষ ম্যাচেও তিনি ছিলেন দলের সেরা অস্ত্র। এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়েই জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ অধ্যায়টি শেষ করলেন মেসি। সতীর্থদের মাঝে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি মেসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ