রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন: প্রত্যাবাসনের পথে বাধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের বক্তব্য’ শীর্ষক এক জাতীয় নীতি অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, বাংলাদেশ আর কতদিন এই মানবিক বোঝা বহন করবে তা অনিশ্চিত, তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ ও ক্রিমিনোলজি রিসার্চ ফোরামের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই নীতি নির্ধারণী অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু সমর্থনের মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সংকট নিরসনে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসার সময় এসেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে নিজেদের আবাসভূমি হিসেবে অস্বীকার না করলেও, যেসব পরিস্থিতির কারণে তারা ভিটেমাটি ছেড়েছে, সেই অবস্থায় ফিরে যেতে তারা ভীত।
প্রতিমন্ত্রী প্রত্যাবাসনকে একটি আস্থার জায়গা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, রোহিঙ্গারা মূলত দয়া চায় না, তারা চায় তাদের অধিকার ফিরে পেতে। এর আগে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটি স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, সেখানে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকারের কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে সহিংসতার অবসান, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, জবাবদিহি তৈরি এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একটি গ্রহণযোগ্য প্রত্যাবাসনের রূপরেখার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি ও পরিচয়, জমি ও সম্পত্তির অধিকার, নিরাপত্তা এবং বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তার মাধ্যমে আস্থা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার বিষয়ে শামা ওবায়েদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধ প্রবণতা ও নিরাপত্তাহীনতাকে কোনোভাবেই ‘নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি’ হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। উখিয়ার ১৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮১৬ জনের ওপর জরিপ এবং প্রত্যাবাসন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে ৭২টি একান্ত সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার রূপরেখা প্রণয়ন ও জাতীয় কৌশল কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানের শেষে প্রতিমন্ত্রী রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে গবেষক দলের পক্ষ থেকে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।